রাত হলেই চারচাকা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ার নেশা ছিল চারবন্ধুর! জাতীয় সড়কে ছোটানো হত গাড়ি। সোমবার গভীর রাতেও চার বন্ধু গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন। ঝড়ের গতিতে চালানো হচ্ছিল গাড়ি! জাতীয় সড়কের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারের বটগাছে ধাক্কা। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, চারচাকা ওই গাড়িটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে গিয়েছে। ঘটনায় মারা গিয়েছেন তিন বন্ধু। আরও এক বন্ধু কার্যত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। হাড়হিম করা ওই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ার (Alipurduar Road Accident) জেলার পুটিমারি গ্রামে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম প্রদীপ ঘোষ, অভিজিৎ দাস ও দ্বীপ দাস। জখম যুবকের নাম বিনয় পাল চৌধুরী। ওই গাড়ি বিনয়েরই বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। ওই তরুণদের বয়স ২৩ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। মৃত ৩ জনের বাড়ি আলিপুরদুয়ারের বিবেকানন্দ ক্লাব, রাজাভাতখাওয়া ও জিতপুর এলাকায়। জখম তরুণ ভোলারডাবরির বাসিন্দা। ওই গাড়িটি প্রবল বেগে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে বারোবিশার দিকে যাচ্ছিল। সেই সময়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জাতীয় সড়কের পাশে থাকা বড় বটগাছে ধাক্কা মারে সেটি।
দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি। নিজস্ব চিত্র
জানা গিয়েছে, ওই চারজন প্রাণের বন্ধু ছিল। মাঝেমধ্যেই চারচাকা গাড়ি নিয়ে রাতে বেরিয়ে পড়া ছিল তাঁদের নেশা। রাস্তায় ঝড়ের বেগে গাড়ি চালানো হত বলে অভিযোগ। গতকাল, সোমবার গভীর রাতেও ওই চার বন্ধু গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন। সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের সামনে একটি বটগাছে গিয়ে গাড়িটি সজোরে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষ এতটাই বেশি নয়, যে গাড়িটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায়। বিকট আওয়াজ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। দেখা যায়, তিন তরুণ রাস্তার উপর ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন।
গাড়ির ভিতর থেকে আরেকজনকে বার করে আনা হয়। দ্রুত ওই চারজনকে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তিনজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়িটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা? তাঁরা কি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন? নাকি প্রবল গতিতে গাড়ি চালানোই কাল হল? সেই বিষয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। শামুকতলা রোড ফাঁড়ির ওসি সঞ্জীব মাদক বলেন, "খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে জখমদের আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তিনজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আমরা গোটা ঘটনার তদন্ত গুরুত্ব দিয়ে করছি।"
