আবাস যোজনায় বাড়ি পেয়েছিল পরিবার। সেই নতুন বাড়িতে ইলেকট্রিকের কাজ করছিলেন গৃহকর্তাই। আর সেই কাজ করার সময় ঘটল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেলে স্বামী-স্ত্রী ও তাঁদের ১২ বছরের নাবালক ছেলে! ১৪ বছর বয়সী বড় মেয়ে বাড়ি ফিরে দেখতে পায় বাবা-মা ও তিনজনে মেঝেয় পড়ে রয়েছেন! চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। শর্টসার্কিট থেকে তিনটি তরতাজা প্রাণ চলে গেল। প্রাথমিকভাবে এমনই মনে করছে পুলিশ।
মৃত দম্পতির নাম সিরাজ মল্লিক ও আলিয়া বিবি। মৃত ১২ বছরের সন্তানের নাম আনাস মল্লিক। জানা গিয়েছে, বছর ৪২ বয়সী পুলকার চালান। এছাড়াও চাষের জমিতে পাওয়ার টিলার ভাড়া দেন তিনি। সম্প্রতি আবাস যোজনায় বাড়ি পেয়েছে ওই পরিবার। বাড়ি তৈরি হয়ে গেলেও বিদ্যুতের কাজ বাকি ছিল। সেই কাজকর্ম সিরাজ মল্লিক নিজেই করছিলেন বলে খবর। আর ওই কাজ করার সময়ই চলে গেল প্রাণ।
জানা গিয়েছে, সিরাজ মল্লিক বাইরের কাজকর্ম সেরে গতকাল, শনিবার সন্ধেবেলা বাড়ি ফিরেছিলেন। তারপর ইলেকট্রিকের কাজ শুরু করেন। ঘরের ভিতর ওই কাজ করার সময়ই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। স্বামীকে রক্ষা করতে ছুটে আসেন স্ত্রী। স্বামীর সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি! দম্পতির বড় মেয়ে টিউশন পড়তে গিয়েছিল। বছর ১৪ বয়সের ওই কিশোরী বাড়ি ফিরে দেখতে পায় বাবা-মা, ভাই একে অপরকে ছুয়ে মাটিতে পড়ে রয়েছে। সেই দেখেই পাশের বাড়ির কাকুকে খবর দিতে ছোটে সে। প্রতিবেশীরা হইচই শুনে ছুটে যান। মেইন সুউচ অফ করা হয়। তিনজনকে ওই অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁদের তিনজকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।
খবর দেওয়া হয় ভবানীপুর থানায়। পুলিশ হাসপাতাল ও ওই বাড়িতে তদন্তে যায়। দিন কয়েক ধরেই বর্ষার বৃষ্টি চলছে। ফলে বাড়ির দেওয়াল ভিজে। কোনওভাবে জলের সংস্পর্শে এসে গিয়েছিল ওই বিদ্যুতের তার। সেখান থেকেই সর্টসার্কিট! সন্ধের পর ইলেকট্রিকের কাজ শুরু করার পরেই সিরাজ মল্লিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাঁকে রক্ষা করতে এসে একইভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন স্ত্রী। কিছু বুঝে উঠতে না পেরে বাবা-মাকে স্পর্শ করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ছেলেও। পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। কীভাবে ঘটনা ঘটল, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় শোকের ছায়া এলাকায়। বাবা-মা, ভাইকে হারিয়ে ১৪ বছরের কিশোরী কেঁদেই চলেছে।
