নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে সমাজ মাধ্যমে কুরুচিকর ও অসম্মানজনক মন্তব্য করার অভিযোগ। বুধবারই এই বিষয়ে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী কুকথায় কাউকে যে ছাড়া হবে না, তাও স্পষ্ট করে দেন। এরপরেই কড়া পদক্ষেপ রাজ্য পুলিশের। দায়ের হল ছয়টি এফআইআর। গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে। ধৃতের নাম কিরণকুমার দাস। অভিযোগ, সমাজ মাধ্যমে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য পোস্ট করেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, সমাজ মাধ্যমে নেতাজিকে নিয়ে অবমাননাকর ১০৮টি পোস্ট সরানো হয়েছে বলেও খবর।
ইসলামপুর পুলিশ সুপার রাকেশ সিং বলেন, ''ধৃতকে জেরা করতে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে তদন্ত করতে ইসলামপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে।"
সম্প্রতি নেতাজি নিয়ে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের একটি মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত। শুধু তাই নয়, সমাজ মাধ্যমে নেতাজি সম্পর্কে একাধিক বিতর্কিত পোস্ট সামনে আসে। এরপরই নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে যে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলবে তা স্পষ্ট জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “যারা সোশাল মিডিয়ায় নেতাজি নিয়ে অপমানজনক, মিথ্যা, অপপ্রচার করার দুঃসাহস দেখিয়েছেন। পুলিশকে তাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিচ্ছি। অবিলম্বে ক্ষমা চেয়ে পোস্ট করতে হবে। অসম্মানজনক পোস্ট ডিলিট করতে হবে। তবে ডিলিট করে দিলেই যে তিনি ছাড় পাবেন তা নয়। পুলিশ নির্দিষ্ট নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।'' প্রশ্ন ওঠে, অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধেও পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়া হবে? কারও নাম না নিলেও মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ‘‘আইন সকলের জন্য সমান।’’
মুখ্যমন্ত্রীর এহেন হুঁশিয়ারির পরেই শুরু হয় পুলিশের তৎপরতা। ছটি এফআইআর দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় কিরণকুমার দাসকে। জানা গিয়েছে, ধৃতের বাড়ি উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়া থানার ঝাড়বাড়ি এলাকায়। অভিযোগ, সমাজ মাধ্যমে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য পোস্ট করেছিলেন বলে অভিযোগ ধৃতের বিরুদ্ধে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলেও তৎপরতা বাড়ে। ইসলামপুর পুলিশ সুপার রাকেশ সিং বলেন, ''ধৃতকে জেরা করতে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে তদন্ত করতে ইসলামপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে।" তবে ধৃত ওই যুবকের সমাজমাধ্যমে নেতাজিকে নিয়ে পোস্টের প্রেক্ষাপট কী এবং এই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছেন কি না—তা তদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে বলে জানাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
