বারাসত পুরসভায় ভাঙন আরও প্রকট। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান-সহ ১১ জন তৃণমূল কাউন্সিলরের পদত্যাগের রেশ এখনও কাটেনি। সেই ঘটনার মধ্যেই মঙ্গলবার আরও ৯ জন তৃণমূল কাউন্সিলর ইস্তফা দিলেন। দলীয় সূত্রের দাবি, বুধবার আরও কয়েকজন কাউন্সিলর পদত্যাগ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে পুরসভায় প্রশাসক বসানোর সম্ভাবনাও অনেকটাই বেড়ে যাবে।
উল্লেখ্য, ৩৫ ওয়ার্ডের বারাসত পুরসভায় তৃণমূলের দখলে ৩২টি ওয়ার্ড। বাকি দু'টি সিপিএম এবং একটি সিপিআইয়ের। সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই পুরসভা নিয়ে তৃণমূল কাউন্সিলরদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, ওয়ার্ডের কাজ ও নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে আরও স্থিতিশীল পরিবেশ প্রয়োজন। এই আবহেই একের পর এক কাউন্সিলরের পদত্যাগে পুরসভার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। এদিন পদত্যাগ করেন সুমিত সাহা, তন্নিষ্ঠা খাসনবিশ, শিল্পী দাস, সমীর কুণ্ডু, মৌসুমী তালুকদার, স্বপ্না বসু, কণিকা রায় চৌধুরী, অরূপ পাইন এবং নীলিমা মণ্ডল। পদত্যাগী কাউন্সিলর শিল্পী দাস বলেন, "বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কাজ করার পরিবেশ নেই। বারাসতের মানুষ আরও ভালো নাগরিক পরিষেবা পান, সেটাই চাই।"
সুমিত সাহার বক্তব্য, "ব্যক্তিগত কারণেই কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি।" এনিয়ে বিজেপি বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায় বলেন, "তৃণমূলের কাউন্সিলররা ওয়ার্ডে যেতে পারছেন না। তাই একের পর এক পদত্যাগ করছেন। পুরবোর্ড ভেঙে গেলে প্রশাসক বসিয়েই নাগরিক পরিষেবা চালানো হবে।" টানা পদত্যাগে বারাসত পুরসভার ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। বুধবার আরও কাউন্সিলর ইস্তফা দিলে পুরবোর্ডের ভবিষ্যৎ কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
