shono
Advertisement
Argentina vs Egypt Match Report

বিশ্বকাপে অব্যাহত মেসি মহাকাব্য! দু'গোলে পিছিয়ে পড়েও নাটকীয় জয়ে শেষ আটে আর্জেন্টিনা

ম্যাচের শুরুতে মনে হচ্ছিল লিওনেল মেসিকেই খলনায়কের আসনে বসাতে হবে, কিন্তু মেসি বোঝালেন তিনি মাঠে থাকলে যে কোনও মুহূর্তে কামব্যাক সম্ভব।
Published By: Subhajit MandalPosted: 11:33 PM Jul 07, 2026Updated: 12:33 AM Jul 08, 2026

আর্জেন্টিনা: ৩ (রোমেরো, মেসি, এনজো)
মিশর: ২ (ইব্রাহিম, মোস্তফা)
আহা কী দেখিলাম! এ কী মহাকাব্য! নাকি ফুটবল ঈশ্বরের নিজের হাতে লেখা কোনও গল্পগাথা! মঙ্গলবার আটলান্টায় মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচে যা ঘটল সেটা কোনও ম্যাজিকের চেয়ে কম কিছু নয়। আসলে লিওনেল মেসি মাঠে থাকলে সবই সম্ভব। হ্যাঁ, দু'গোলে পিছিয়ে পড়েও প্রত্যাবর্তন সম্ভব। শেষ বাঁশি না পড়া পর্যন্ত হার না মানা মানসিকতায় লড়াই করে যাওয়া সম্ভব। হারের মুখ থেকে জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব। যেমনটা হল মঙ্গলবার আটলান্টায়। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মিশরকে হারিয়ে বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেল আর্জেন্টিনা। একটা সময় ২ গোলে পিছিয়ে পড়া আর্জেন্টিনা সংযুক্ত সময়ে গোল করে শেষ আটে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে ফেলল (Argentina vs Egypt Match Report)।

Advertisement

ম্যাচ শেষে সেলিব্রেশনে মেসি। ছবি: সংগৃহীত।

ম্যাচের শুরুতে মনে হচ্ছিল লিওনেল মেসিকেই আর্জেন্টিনা সমর্থকদের খলনায়কের আসনে বসাতে হবে। যেভাবে এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর পেনাল্টি স্পট থেকে নির্বিষ শটে পত্রপাট মিশরের গোলরক্ষকের হাতে বলটি তুলে দিলেন, তাতে অতি বড় মেসি ভক্তও হতাশ হয়েছেন নিশ্চিত। আর শুধু ওই পেনাল্টি কেন, মেসি এদিন বারবার আটকে যাচ্ছিলেন প্রথমার্ধে। যেমনটা আটকে যাচ্ছিলেন তাঁর সতীর্থ আলভারেজ, এনজো ফার্নান্ডেজরা। মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেরকে যেন অভেদ্য প্রাচীর মনে হচ্ছিল। একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভে বারবার সালাহদের ত্রাতা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন তিনি। উলটো দিকে মেসির প্রতিপক্ষের আসরে এদিন যিনি ছিলেন, সেই মহম্মদ সালাহ-তিনি যেন অপ্রতিরোধ্য। বারবার প্রতি আক্রমণে সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছিলেন। সালাহর তৈরি করা সুযোগে দু'গোলে এগিয়ে গিয়েছিল মিশর। প্রথম গোল ১৫ মিনিটে ইব্রাহিমের অনবদ্য হেডারে। ৬৭ মিনিটে দ্বিতীয় গোল মোস্তাফার। এর মধ্যে আবার রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে একটা গোল বাতিল হয়েছে। নাহলে ৩-০ গোলে এগিয়ে যেতে পারত মিশর। সেসময় মনে হচ্ছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের খেতাব ধরে রাখার লড়াই বুঝি এতদূরই।

কিন্তু ওই যে আর্জেন্টিনার জার্সিতে এদিনও মাঠে ছিলেন লিওনেল মেসি নামের এক মহানায়ক। তিনি হাল ছাড়লেন না। বারবার আটকে যাওয়ার পরও মিশরের পিরামিডে আরোহণ করার চেষ্টা চালিয়ে গেলেন। প্রথম গোলটা তাঁর পা থেকে এল না ঠিকই। কিন্তু সতীর্থ রোমেরোর হেডারের জন্য বলটা সাজিয়ে দিলেন তিনিই। ততক্ষণে ম্যাচের বয়স ৭৯ মিনিট। তখনও এক গোলে পিছিয়ে আর্জেন্টিনা। মুহুর্মুহু আক্রমণে মিশর রক্ষণ তখন ছিন্নভিন্ন। মিনিট চারেক বাদে ফের স্বমহিমায় ধরা দিলেন মেসি। ফের বাঁ-পায়ের চেনা শট জড়িয়ে গেল মিশরের জালে। বিশ্বকাপে তাঁর ২১ তম গোল। চলতি বিশ্বকাপে অষ্টম। দুটোই রেকর্ড। নির্ধারিত সময়ের ৭ মিনিট বাকি থাকতে মেসির পায়ে সমতায় ফিরল আর্জেন্টিনা।

মেসির চোখে জল। ছবি: সংগৃহীত।

কামব্যাকের গল্পটা লেখা তখনও বাকি ছিল। যে সময় মনে হচ্ছিল, দু'গোল পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরালেও ৯০ মিনিটে খেলা শেষ করতে পারবে না আর্জেন্টিনা। ফের খেলা গড়াবে এক্সট্রা টাইমে। যেমনটা হয়েছিল কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে। ঠিক সেসময় উদয় এনজো ফার্নান্ডেজের। ম্যাচের ৯৩ মিনিটে লওটারো মার্টিনেজের ক্রসে এনজোর হেডার। আবারও মিশরের জালে বল। ২-০ থেকে মাত্র ৩০ মিনিটে ৩-২ গোলে জয় লা আলবেসেলেস্তের। রেফারি খেলা শেষের বাঁশি বাজানোর পর অঝোরে কাঁদলেন মেসি। সতীর্থদের আলিঙ্গনে সেই কান্না যেন আরও বেড়ে গেল। আসলে তিনিও জানেন, একটুর জন্য তাঁর দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হওয়া থেকে বেঁচে গেল। তিনিও জানেন, এই কামব্যাকের কাহিনী রোজ লেখা যায় না। আপাতত আর্জেন্টিনার নজর কোয়ার্টার ফাইনালে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement