সৌরভ মাজি, বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানে শুটআউট। দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন এক লটারির টিকিট বিক্রেতা। ব্যবসার কাজ শেষ করে বাড়ির ফেরার পথে দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হল তাঁর।মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি ঘটে পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি থানার ছোটবৈনানের কাছে ছাতাদিঘির পাড়ে।
রাত সাড়ে দশটা নাগাদ লটারির দোকান বন্ধ করে অন্যান্য দিনের মতোই বাইকে চড়ে মাধবডিহির আরিকপুরো বাড়ি ফিরছিলেন বছর আটচল্লিশের হামিদ আলি খান। ছাতাদিঘির পাড়ের কাছে নির্জন জায়গায় আসতেই পিছন থেকে একটি মোটর সাইকেলে আসা ৩ জন দুষ্কৃতী হামিদ আলিকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন লটারি ব্যবসায়ী। গুলির শব্দে আশেপাশের লোকজন বেরিয়ে পড়ে। এদিকে, পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ঘটনাস্থল ছাড়ে দুষ্কৃতীরা। খবর পেয়ে মাধবডিহি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা হামিদকে মৃত বলেই জানান।
[আরও পড়ুন: লক্ষ্য গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিকাঠামোর উন্নয়ন, ৯ দপ্তরের জন্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাজ্যের]
জানা গিয়েছে, ওই লটারি ব্যবসায়ী সক্রিয় তৃণমূল কর্মী ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে বাড়ি ফেরার সময় হামিদের কাছে লক্ষাধিক টাকা ছিল। দুষ্কৃতীরা সেই টাকা লুট করে পালিয়েছে। খুনের ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে মাধবডিহি থানার পুলিশ। এই খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রশ্নের ভিড়। দুষ্কৃতীদের পরিচয় কী? তাদের উদ্দেশ্যই বা কী ছিল? ছিনতাইয়ে বাধা পেয়ে খুন নাকি খুনের নেপথ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত শত্রুতা? সব দিকই খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি দুষ্কৃতীদের ধরতে বেশ কয়েকটি থানাকে ইতিমধ্যেই জেলা পুলিশের তরফে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে মাধবডিহিতেই একটি খুনের ঘটনা ঘটেছিল। সম্প্রতি কয়েকমাস আগেও ওই একই জায়গায় গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছিল। স্বাভাবিকভাবেই একের পর এক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় মাধবডিহির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারাও।
