মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থিকথিক করছে ভিড়। কেউ আহতের দাদু। কেউ ঠাকুমা। কেউবা বাবা-মা। কেউ কাঁদছেন। কেউ শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছেন। কেউবা দুঃসংবাদ পেয়ে নড়াচড়ার ক্ষমতাও যেন হারিয়ে ফেলেছেন। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝে লেভেল ক্রসিং পারাপারের সময় ট্রেনের ধাক্কার পর এমনই অবস্থা হাসপাতাল চত্বরের। ছোট্ট প্রাণগুলি হাসপাতালের বেডে শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। আর বাইরে ক্রমশ বাড়ছে উদ্বেগ।
ঘুমঘোর কাটিয়ে তৈরি হয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল খুদেরা। গন্তব্য যদুপুর রয়্যাল অ্যাকাডেমি। কিন্তু পথেই বিপত্তি। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝে লেভেল ক্রসিং পারাপারের সময় ট্রেনের ধাক্কা। তাতেই জখম বছর পাঁচেকের ইশানুর রহমান। আহত হয়েছে অনিশা খাতুন, তামান্না খাতুন, মোশারফ মোল্লা, শামিমা খাতুন, বিশ্বেশ্বর মণ্ডল। সকলের চিকিৎসা চলছে। বছর পাঁচেকের স্কুলছাত্র ইশানুর রহমানের ঠাকুমা বদরুন্নেসা বিবি হাসপাতালে বাইরে দাঁড়িয়ে মুখে আঁচল চাপা দিয়ে কেঁদেই চলেছেন। বলেন, "ছোট ছেলে। স্কুলে যাচ্ছিল। কীভাবে যে দুর্ঘটনা হয়ে গেল। অবস্থা খুব সুবিধার নয়।"
হাসপাতালে উপস্থিত সকলেরই দাবি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী গেটম্যান। স্থানীয়দের দাবি, কেবিনে দিনভর নেশাগ্রস্ত হয়ে বসে থাকতেন তিনি। অধিকাংশ দিনই গেট বন্ধ করার পর তা খুলতে ভুলে যেতেন। এদিনও নেশাগ্রস্ত হওয়ার কারণেই তিনি গেট বন্ধ করতে ভুলে গিয়েছিলেন বলেই দাবি। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। রেলের তরফে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে গেটম্যান ও সুপারভাইজারকে। মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে ভারতীয় রেল। আহতদের দেওয়া হবে আড়াই লক্ষ টাকা। এই ঘটনার তদন্তের জন্য ১০ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করেছে রেল।
