অতুলচন্দ্র নাগ, ডোমকল: তৃণমূলের প্রধানের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়ার অভিযোগ উঠল প্রধানেরই শ্বশুরের বিরুদ্ধে। মুর্শিদাবাদের রানিনগরের শেখপাড়ায় চাঞ্চল্য। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছয় রানিনগরের ওসি রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস। ঘটনাস্থলের অদূরে একটি গাছের গোড়ায় বোমা ভরতি একটি ব্যাগ ও একটি সকেট বোমা দেখতে পাওয়া যায়। বোমাগুলি নিস্ক্রিয় করার জন্য বম্ব স্কোয়াডকে খবর দেওয়া হয়েছে।
দলীয় প্রধানের বাড়িতে বোমাবাজির ঘটনা শুনে রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান তৃণমূলের রানিনগর ২ ব্লকের সভাপতি সাহ আলম সরকার। ঘটনাস্থলে পৌঁছে কথা বলেন রানিনগর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শেফালি বিবি ও তাঁর স্বামী আনিসুর রহমান ওরফে বাচ্চুর সঙ্গে। বাড়িতে বোমা ফাটানোর ঘটনায় সরাসরি বাবা জহিরুদ্দিন শেখের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন আনিসুর রহমান বাচ্চু। বলেন, “৩৩ বছর হল বাবা আমাদের দেখেন না। দ্বিতীয় বিয়ে করে পৃথক বাড়িতে থাকেন। আমি তৃণমূল করি, আর বাবা আগে তৃণমূল করলেও এখন কংগ্রেস-সিপিএমকে নিয়ে জোট করার চেষ্টা করছে।” তার আরও অভিযোগ, “সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচন। আমি আবারও যদি টিকিট পাই তাহলে হয়তো আমার সঙ্গেই লড়তে হবে বাবাকে। সেই আশঙ্কায় পথের কাঁটা হিসেবে আমাকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বোমা ফাটানো হয়েছে।”
[আরও পড়ুন: ‘ধম্মের’ ষাঁড় দুটো গেল কোথায়? কাঠগড়ায় তৃণমূল নেতা, তদন্তে পুলিশ]
পুলিশ অভিযুক্ত জহিরুদ্দিন শেখকে আটক করেছে। এদিকে, জহিরুদ্দিনের স্ত্রী ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান রাবিয়া বিবির অভিযোগ, “ওই ঘটনার আমরা কিছুই জানিনা। অন্যদের মতো আমরাও শব্দ শুনে ঘুম থেকে জেগে যাই। জানার চেষ্টা করছিলাম কোথায় কী হয়েছে। তৃণমূলের লাঠিয়াল বাহিনী পুলিশের উপস্থিতিতেই আমাদের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর করেছে। আলমারি ভেঙে তাতে থাকা টাকা ও ছ’ভরি গয়না, জমির দলিল লুট করে নিয়েছে।” তৃণমূলের রানিনগর ২ ব্লকের সভাপতি শাহ আলম সরকার অবশ্য জানান, “ওই সব অভিযোগ ঠিক নয়। নিজেরাই ভাঙচুর করে গল্প বানাচ্ছে।”
তিনি জানান, “বেশ কিছুদিন ধরেই খবর পাচ্ছিলাম জহিরুদ্দিন শেখ এদিক-সেদিক গোপন বৈঠক করে বেড়াচ্ছেন। বিরোধী দল হিসেবে বৈঠক করতেই পারে। তাই বলে ছেলের বাড়িতে বোমাবাজির পরিকল্পনা ছিল তা বুঝতে পারিনি।” তিনি আরও জানান “ ছেলেই যখন বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে, তখন নিশ্চয় কোনও কারণ আছে। পুলিশকে বলেছি ঘটনার তদন্ত করে আসল কারণ জানতে।”
এদিকে ওই ঘটনায় রানিনগরের প্রাক্তন বিধায়ক, কংগ্রেস নেত্রী ফিরোজা বেগম জানান, “বোমাবাজি, বোমা বাঁধা এসব তৃণমূলের সংস্কৃতি। যতদূর জানি রানিনগরে বিরোধীরা কোণঠাসা। তারা তো বাড়িতেই থাকতে পারছে না। এই অবস্থায় তৃণমূল বিরোধীরা কেউ এই কাজ করবে বিশ্বাস করি না। তৃণমূলের নিজেদের মধ্যেই হয়তো কেউ শাহ আলম সরকারের কাছে পাত্তা পাচ্ছিল না। তাই পাত্তা বা সহানুভূতি পাওয়ার জন্য নিজেরাই বোমা ফাটিয়ে অন্যদের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছে।”
