shono
Advertisement

রায়গঞ্জে জেলা পরিষদের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের স্ত্রীর গলাকাটা দেহ উদ্ধার, কারণ ঘিরে ধোঁয়াশা

বাড়ির বিছানা থেকে ওই মহিলার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।
Posted: 07:40 PM Nov 11, 2022Updated: 09:06 AM Nov 12, 2022

শংকরকুমার রায়, রায়গঞ্জ: ভরসন্ধেয় রায়গঞ্জে খুন গৃহবধূ। বাড়ির বিছানা থেকে উদ্ধার উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের স্ত্রীর গলাকাটা দেহ। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে সন্তান মহিলার দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর খবর পেয়ে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। লুটপাটের উদ্দেশে খুন নাকি নেপথ্যে রয়েছে পরকীয়া, তা নিয়ে এখনও জারি ধোঁয়াশা। এলাকায় পুলিশ কুকুর দিয়ে চলছে জোর তল্লাশি।

Advertisement

নিহত সুপ্রিয়া দত্তর স্বামী উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার। রায়গঞ্জের রবীন্দ্রপল্লিতে বসবাস তাঁর। এক পুত্রসন্তানও রয়েছে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির পড়ুয়া। শুক্রবার সকালে ব্যাংকে যান সুপ্রিয়া। দুপুর দু’টো নাগাদ কাজ সেরে বাড়ি ফেরেন। তার আগে পরিচারিকা বাড়ি চলে যান। তাই সুপ্রিয়াদেবী একাই বাড়িতে ছিলেন। প্রতিদিন বেলা সাড়ে তিনটে নাগাদ ছেলে স্কুল থেকে ফেরে। তাই দরজা ভিতর থেকে সেই সময় বন্ধ করেননি ওই গৃহবধূ। নির্দিষ্ট সময়মতো স্কুল থেকে বাড়ি ফেরে গৃহবধূর ছেলে অনীক। সে ঘরে ঢুকে কার্যত অবাক হয়ে যায়। দেখে ঘর লণ্ডভণ্ড। অন্য ঘরে গিয়ে দেখে বিছানার উপর গলাকাটা অবস্থায় পড়ে রয়েছেন মা। চতুর্দিক রক্তে ভেসে যাচ্ছে।

[আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামে শহিদ তর্পণ মঞ্চে আগুন: ‘৩ দিনের মধ্যে দোষীরা গ্রেপ্তার না হলে অনশন’, হুঁশিয়ারি কুণালের]

খবর দেয় বাবাকে। এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে অফিস থেকে বাড়িতে ফেরেন গৃহবধূর স্বামী। তিনিও একই দৃশ্যের সাক্ষী হন। ততক্ষণে খবর পায় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। তদন্তকারীরা তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। গৃহবধূর গলাকাটা দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। এলাকায় পুলিশ কুকুর দিয়ে চলছে তল্লাশি। পুলিশের দাবি, ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, সরকারি বাস থেকে নেমে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবককে ওই অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ির গলি পর্যন্ত ঢুকতে দেখা গিয়েছে। ওই যুবকের এই ঘটনার সঙ্গে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা তদন্তসাপেক্ষ বলেই দাবি পুলিশের।

মহিলার প্রতিবেশীদের দাবি, সুপ্রিয়ার অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। তিনি প্রায়শয়ই বাড়িতে আসাযাওয়াও করতেন। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, লুটপাটে বাধা দেওয়ায় প্রাণ দিতে হয়েছে গৃহবধূকে। দেহ উদ্ধারের সময় মহিলার হাতের বালাটি পাওয়া যায়নি। তবে গলার সোনার চেন ছিল। যদি লুটপাটের উদ্দেশে কেউ মহিলাকে খুন করে তবে সে কেন মহিলার সোনার হারটি নিয়ে গেল না, তা ভাবাচ্ছে পুলিশকে। আবার বাড়িতে ওই মহিলা এবং তার ছেলের মোবাইল ফোনটিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সেগুলি চুরি হয়েছে নাকি প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশে সরিয়ে ফেলা হয়েছে, সে প্রশ্নও দানা বাঁধছে। ভরসন্ধেয় এই খুনের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন উঠবেই সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

[আরও পড়ুন: চাকরিপ্রার্থীকে পুলিশের কামড়, বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ লালবাজারের]

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার