অরূপ বসাক, মালবাজার: বর্ষশেষের সকালের অমানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকল জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজার সাব ডিভিশিন। যেখানে বাবা এবং বড় দাদার হাতে খুন হতে হল এক যুবককে। শুধু তাই নয়, দু’জনে মিলে ওই যুবককে জ্বালিয়ে মাটির নিচে পুঁতেও দিল। আর এই ঘটনার কথা প্রকাশ্য আসতেই মালবাজার সংলগ্ন পণ্ডিত পাড়া। মৃতের নাম লাঠা উড়াও (২৬)। ইতিমধ্যে দুই অভিযুক্ত সানি উড়াও (৫৫) এবং ফাগু উড়াও (৩২)-কে গ্রেপ্তার করেছে মেটেলি থানার পুলিশ।
[পাঁচিল টপকে উধাও বিচারাধীন বন্দি, চাঞ্চল্য ছড়াল রঘুনাথপুরে]
জানা গিয়েছে, মালবাজার সংলগ্ন মেটেলি ব্লকের বিধাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন পণ্ডিত পাড়ায় স্ত্রী এবং এক কন্যাকে নিয়ে সংসার নিহত লাঠার। বিধান নগরের গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নিতেন রায় জানান, বাবার সঙ্গে ছোটছেলের বেশকিছু দিন ধরেই অশান্তি চলছিল। ঘটনার দিন সকালে দু’জনের মধ্যে মীমাংসাও করে যান তিনি। কিন্তু বাড়ি গিয়ে এই ঘটনার কথা জানতে পারেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে মেটেলি থানায় খবর দিয়ে ঘটনাস্থলে যান নিতেনবাবু।
[লটারির টিকিট কেটে মাটির ঘরের মালিক এখন কোটিপতি]
ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখা যায়, মৃত লাঠার বাড়ির পাশে একটি মাঠের মধ্যে কিছু কাঠ, বাঁশ ও খড় পুড়ছে। পাশেই ছিল একটি ঢিপি। স্থানীয় সঞ্জীব উড়াও জানান, লাঠাকে মেরে ওখানেই জ্বালিয়ে এবং পাশের ওই ঢিবিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছে। এরপর বাড়ির মধ্যে ঢুকে দেখা গেল উঠোনে বসে রয়েছেন মৃতের মা দিনু উড়াও। তিনি জানালেন, ছোটছেলে লাঠা টাকার জন্য মাঝেমধ্যেই ঝামেলা করত। শনিবারও সাত হাজার টাকার জন্য প্রচণ্ড অশান্তি করেছিল। এর আগে বাইক কিনে দেওয়ার জন্য খুব ঝামেলা করে। তবে বাইক কিনে দিলেও সে শান্ত হয় নি। রবিবার সকাল থেকে আবার বাবার সঙ্গে ঝামেলা শুরু করে। এরপর পঞ্চায়েত প্রধান এসে মীমাংসা করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রধান চলে যেতেই বাবা এবং ছেলে মারামারি শুরু করে। এরপরেই অভিযুক্ত সানি লাঠি পিটিয়ে মারে ছেলেকে। গ্রামের এক মহিলা বানী বেগম জানান, ‘সকালে ওই বাড়িতে ঝামেলা হয়েছিল। ৯ টা নাগাদ দেখি ধোঁয়া উড়ছে। কাছে যেতেই বড়ছেলে ফাগু উড়াও ভোজালি নিয়ে তেড়ে আসে। তাই আমরা পালিয়ে এসেছি।’ এরপরই ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। গ্রেপ্তার করে বাবা এবং বড় ছেলেকে।
[বর্ষবরণে হরেক আয়োজন, দিঘা যেন স্বপ্নপূরণের মৌতাত]
The post পারিবারিক অশান্তি, বাবা এবং বড় দাদার হাতে নৃশংসভাবে খুন যুবক appeared first on Sangbad Pratidin.
