shono
Advertisement

শিশুদিবসে আধারের ‘সঞ্জীবনি’হাতে পেলেন তেইশের যুবক

কারণটি বেশ চমকপ্রদ। The post শিশুদিবসে আধারের ‘সঞ্জীবনি’ হাতে পেলেন তেইশের যুবক appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 01:40 PM Nov 14, 2017Updated: 02:57 PM Sep 24, 2019

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: বয়স তেইশ। কিন্তু চেহারা দেখে কে বলবে! ঠিক যেন আড়াই কি তিন বছরের বাচ্চা। ধন্দে পড়েছিল আধার কর্তৃপক্ষও। বারবার বাতিল হয়েছে আধারের আবেদন। বয়সের সঙ্গে ছবি যে মিলছে না! ফলত বারংবার ভুল বোঝাবুঝি। অবশেষে হল সুরাহা। শিশুদিবসেই হাতে আধার পেলেন বছর তেইশের সঞ্জীব মাহাতো।

Advertisement

অনলাইনে কেনাকাটার বিল মেটাতে নিজেরই অপহরণের গল্প পড়ুয়ার ]

পুরুলিয়ার ১ নং ব্লকের গাড়াফুসড়ো গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জীব। জন্ম ১৯৯৩-এ। গোড়াতে একেবারে সুস্থ-স্বাভাবিক ছিলেন। পড়াশোনা-খেলাধুলো দুইই চলত সমান তালে। ক্লাস এইটের পর থেকে বিপত্তির সূত্রপাত। অস্টিপোরেসিসে আক্রান্ত হন সঞ্জীব। ক্রমশ তাঁর হাড় খইতে থাকে। চেহারাও খারাপ হয়। অবশেষে এখন প্রায় শিশুর চেহারা হয়েছে তাঁর। মুখ দেখলে আড়াই বা তিন বছরেরে বাচ্চা বলেই মনে হয়। উচ্চতাও মেরেকেট দুই ফুট। এই অবস্থাতেই আধারের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু চারবার তা বাতিল হয়েছে। যতবার ছবি ও বয়স মেলাতে চেয়েছে আধার কর্তৃপক্ষ, ততবারই গোল বেধেছে। ছবিতে একেবারে বাচ্চা। অথচ বয়স লেখা আছে ২৩। ধরেই নেওয়া হয়েছিল কোথাও একটা ভুল হচ্ছে। ফলে আধার হয়নি। প্রথমে নিজের গ্রামেরই স্থায়ী আধার কেন্দ্রে গিয়ে আধার করানোর চেষ্টা করেছিলেন। না হওয়ায় অন্যান্য নানা সেন্টারে গিয়ে চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনওভাবেই নিজের আধার করাতে পারছিলেন না ওই যুবক।

[ সন্তানের গায়ের রং ফর্সা, অজুহাতে শিশুসন্তানকে খুন করল বাবা! ]

এদিকে আধার না থাকার বিপদও আছে। শুধুই কি সচেতনতার জন্য আধার করাতে চাইছিলেন সঞ্জীব? ঠিক তা নয়। শারীরিক অবস্থার কারণে মাসে ছ’শো টাকা করে প্রতিবন্ধী ভাতা পান তিনি। কিন্তু জনকল্যাণমূলক প্রায় প্রত্যেক পরিষেবার ক্ষেত্রেই আধার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ফলে আধারের কারণে ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও ছিল। তা সত্যিও হয়। গত পাঁচ মাস ধরে ভাতা পাচ্ছিলেন না তিনি। আধার তাই একান্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। শেষমেশ পুরুলিয়া পুরসভার মধ্যে একটি আধার কেন্দ্রে গিয়ে সমাধানের হদিশ মেলে। তাদের পরামর্শেই রাঁচিতে আধারের আঞ্চলিক অফিসে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠি পেয়ে ইউডিএআই-এর আঞ্চলিক অফিসের ডেপুটি ডিরেক্টর রাজেশ কুমার প্রসাদ নিজে পুরো বিষয়টি দেখেন। সঞ্জীবের অবস্থা বুঝতে পারেন। তিনি জানান, পুরো বিষয়টি তিনি দিল্লিতে জানাচ্ছেন। সেইমতো ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ। এরপরই ঘটনার নিষ্পত্তি হয়। আধার হওয়ার ব্যবস্থা হয় সঞ্জীবের। আজ শিশুদিবসের দিনই তাঁর হাতে আধার তুলে দেওয়া হল।

মানবমূত্র থেকে ইউরিয়া বানিয়ে মূত্র ব্যাঙ্ক গড়ার পরামর্শ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ]

বয়সে যুবক হলেও যেহেতু সঞ্জীব বাচ্চার মতোই, তাই এদিনটিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। পুরুলিয়া মিউনিসিপ্যালিটির উদ্যোগে জেলা পরিষদ প্রেক্ষাগৃহে এদিনের অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে আধার তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ডিরেক্টর রাজেশ কুমার প্রসাদ স্বয়ং। ছিলেন অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর সুনীল প্রসাদও। তিনি জানান, “এটি বিরল ঘটনা। এই অবস্থাতেই যে উনি আধার কার্ড করাতে চেয়েছেন সেটাই আনন্দের। ওঁর সুস্থতা কামনা করি।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুরপ্রধানও। নিজের চেয়ারে তিনি সঞ্জীবকে বসতে দেন। তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় ৫০০০ টাকা। বহু চেষ্টায় আধার পেয়ে স্বস্তিতে অবশেষে শিশুর হাসি ফুটেছে যুবকের মুখেও।

The post শিশুদিবসে আধারের ‘সঞ্জীবনি’ হাতে পেলেন তেইশের যুবক appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার