সম্পূর্ণ নতুন ব্যাকটেরিয়া প্রজাতি আবিষ্কার করে আধুনিক অণুজীব বিজ্ঞান (মাইক্রোবায়োলজি) গবেষণার হাত ধরে জাতীয় স্তরে অভূতপূর্ব সেতুবন্ধন গড়ল রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়। তবে সবচেয়ে গর্বের বিষয়, দেশনেতা ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে নতুন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার নামকরণ করা হয়েছে। তাঁর ১২৫তম জন্মবর্ষ উপযাপনকে স্মরণীয় করে রাখতে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সকলে।
নতুন আবিষ্কৃত এই ব্যাকটিরিয়াটিকে 'সেককোড' (SeqCode - Code of Nomenclature of Prokaryotes Described from Sequence Data) রেজিস্ট্রিতে আনুষ্ঠানিকভাবে 'মাইক্রোমনোস্পোরা শ্যামাপ্রসাদি' (Micromonospora shyamaprasadii sp. nov.) নামে নথিবদ্ধ করা হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অর্ণব সেন।
নতুন আবিষ্কৃত এই ব্যাকটিরিয়াটিকে 'সেককোড' (SeqCode - Code of Nomenclature of Prokaryotes Described from Sequence Data) রেজিস্ট্রিতে আনুষ্ঠানিকভাবে 'মাইক্রোমনোস্পোরা শ্যামাপ্রসাদি' (Micromonospora shyamaprasadii sp. nov.) নামে নথিবদ্ধ করা হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অর্ণব সেন। শুক্রবার ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিয়রঞ্জন সভাঘরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বর্ণময় কর্মজীবন আলোকপাত করেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহিত রায়। সেই অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অর্ণব সেন নতুন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
গবেষক দলটি তুঁত গাছের রাইজোস্ফিয়ার (মূলের চারপাশের সক্রিয় মাটির অংশ) থেকে এই নতুন প্রজাতিটিকে আলাদা করতে সক্ষম হয়েছে। গবেষকদের মতে, এই রাইজোস্ফিয়ার নির্বাচন করার পিছনে একটি গভীর প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে। এটি বাংলার সেই মাটির প্রতিনিধিত্ব করে, যা রক্ষার জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় আজীবন সংগ্রাম করেছিলেন। তাই তুঁত গাছের মূলের মাটি থেকে এই ব্যাকটিরিয়া আবিষ্কার তাঁর অবদানের প্রতি এক অনন্য বৈজ্ঞানিক শ্রদ্ধাঞ্জলি।
নতুন প্রজাতির এই ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কারের নেপথ্যে রয়েছেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরিকালচার বিভাগের অধ্যাপক অমিত কুমার মণ্ডল-সহ পঙ্কজ মণ্ডল, ঋত্বিক মণ্ডল, শুভজিৎ সাউ, দীপাঞ্জন দাস, রোহিণী থাপা এবং সাগ্নিক গুহ। গবেষক দলটি তুঁত গাছের রাইজোস্ফিয়ার (মূলের চারপাশের সক্রিয় মাটির অংশ) থেকে এই নতুন প্রজাতিটিকে আলাদা করতে সক্ষম হয়েছে। গবেষকদের মতে, এই রাইজোস্ফিয়ার নির্বাচন করার পিছনে একটি গভীর প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে। এটি বাংলার সেই মাটির প্রতিনিধিত্ব করে, যা রক্ষার জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় আজীবন সংগ্রাম করেছিলেন। তাই তুঁত গাছের মূলের মাটি থেকে এই ব্যাকটিরিয়া আবিষ্কার তাঁর অবদানের প্রতি এক অনন্য বৈজ্ঞানিক শ্রদ্ধাঞ্জলি।
শুক্রবার ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিয়রঞ্জন সভাঘরে নতুন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার নামের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, নিজস্ব ছবি
মূল গবেষণাটি রাসায়নিক জীববিজ্ঞান পরীক্ষাগারে সম্পন্ন হলেও, এই আবিষ্কারটি রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের যৌথ সহযোগিতার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক প্রদীপ কুমার দাস মহাপাত্রের পাশাপাশি সেরিকালচার বিভাগের তিন সদস্য - দেবনির্মাল্য গঙ্গোপাধ্যায়, আবদুল সাদাত এবং তন্ময় চৌধুরী এই গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছেন। বিজ্ঞান মহলে 'মাইক্রোমনোস্পোরা' গণটি বিভিন্ন ধরনের বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ, বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক এবং চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বায়োটেকনোলজিতে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় এনজাইম বা উৎসেচক তৈরির জন্য যথেষ্ট জনপ্রিয়।
এই আবিষ্কার ও চরিত্রায়ন আগামী দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল বায়োলজি গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশাবাদী। তবে নামকরণ কেবল একটি ট্যাক্সোনমিক বা শ্রেণিবিন্যাসের এন্ট্রি নয়, বরং দেশের ইতিহাস সৃষ্টিকারী নায়কদের সম্মান জানানোর ক্ষেত্রে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় বার্তা। আন্তর্জাতিক সেককোড রেজিস্ট্রিতে এই নাম আপলোড হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, নতুন এই ব্যাকটেরিয়াটি বাংলার অন্যতম নেতার প্রতি একটি স্থায়ী বৈজ্ঞানিক স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেল, যা বিজ্ঞানের দুনিয়ায় নিঃসন্দেহে বর্ণময় আলোর সরণি স্পর্শ করল মাত্র এক দশক উত্তীর্ণ রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়।
