ডায়মন্ড হারবারে সেবাশ্রয়ের মডেল ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্যাম্পে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথাও বলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। অশীতিপর বৃদ্ধা জয়ন্তী চট্টোপাধ্যায়ের পেটে জল জমেছে, হৃদযন্ত্রের সমস্যাও রয়েছে। পেসমেকার বসাতে হবে তাঁর। সেই সমস্যা নিয়ে সেবাশ্রয় ক্যাম্পে ছেলের সঙ্গে এসেছিলেন তিনি। অভিষেককে দেখে বৃদ্ধা এগিয়ে গিয়েছিলেন। সাংসদ বৃদ্ধাকে আশ্বস্ত বলেন, "কোনও চিন্তা করবেন না, সব ব্যবস্থা করে দেব।" এরপর অভিষেক বৃদ্ধার ছেলের ফোন নম্বর নেন এবং দ্রুত যোগাযোগের আশ্বাস দেন। সঙ্গীতা বৈদ্য এসেছিলেন তাঁর সন্তানকে নিয়ে। ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসা চলছে। অভিষেকের কাছে কান্নায় লুটিয়ে পড়েন মহিলা। চিকিৎসার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন তাঁকে সাংসদ।
ডায়মন্ড হারবারের সেবাশ্রয় মডেল ক্যাম্পে এদিন অভিষেক বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের হুইল চেয়ার প্রদান করেন। জেটিঘাটের কাছে হুগলি নদীতে পল্টুন জেটির উপর তৃণমূল কর্মীদের প্রচেষ্টায় সেবাশ্রয়ের মডেল ক্যাম্পে অভিষেককে স্বাগত জানাতে মডেল ক্যাম্পের আদলে জলযান সাজানো হয়। অভিষেক সেটিও দেখেন ও কর্মীদের বাহবা দেন। সব সময় মানুষের পাশে থেকে তাঁদের সেবায় এভাবেই কর্মীদের নিয়োজিত থাকতে নির্দেশ দেন সাংসদ।
হুগলি নদীতে এই সেই মডেল জলযান। নিজস্ব চিত্র
এদিন অভিষেক ডায়মন্ড হারবারের মডেল ক্যাম্পে আসার বেশ কিছুটা পথ চলন্ত গাড়িতে দাঁড়িয়ে জাতীয় সড়কের দু'পাশে অপেক্ষারত সাধারণ মানুষকে কখনও হাত নেড়ে কখনও দু'হাত জড়ো করে শুভেচ্ছা ও নমস্কার জানান। এরপর কিছুটা পথ হেঁটে এসে মডেল ক্যাম্পে যান তিনি। অভিষেককে স্বাগত জানাতে রাস্তার দু'পাশে প্রচুর মানুষ ছিলেন। মোবাইল ফোনে অভিষেককে ফ্রেমবন্দি করতে সাধারণ মানুষ এবং তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। এদিন সাংসদকে মডেল ক্যাম্প ঘুরিয়ে দেখান মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার, বিধায়ক পান্নালাল হালদার, ডায়মন্ড হারবার বিধানসভার পর্যবেক্ষক শামিম আহমেদ, ডায়মন্ড হারবার-যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার মহিলা সভানেত্রী মনমোহিনী বিশ্বাস, তৃণমূল নেতা অরুময় গায়েন, মইদুল ইসলাম-সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা।
মডেল ক্যাম্পে এসে অভিষেক চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং রোগীর আত্মীয়দের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। রোগীদের রোগ নিরাময়ে পরিজনদের আশ্বস্ত করে বলেন, তাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসার সুবন্দোবস্ত করবেন। সকলের আরোগ্য কামনা করে পাশে থাকার আশ্বাস দেন অভিষেক। শিবিরের কর্তব্যরত জুনিয়র ও সিনিয়র চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবকদের আবদারে কখনও তাঁদের সঙ্গে তোলেন সেলফি। কখনও আবার অটোগ্রাফও দেন।
