স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক! তাতেই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী শাহিন মণ্ডলকে (১৬) কে খুন! গ্রেপ্তার খুড়তুতো দাদা। ঘটনার ৪৭ দিন পর তাঁকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতের নাম বাপি মণ্ডল (৩০)। তিনি পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। তদন্তে উদ্ধার হওয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারপর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের সাগরপাড়া থানার পাঁজরাপাড়া এলাকায়।
২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে পেঁয়াজের জমি থেকে শাহিনের গলাকাটা রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। ১৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মসজিদ থেকে ফিরে মা’কে 'আসছি' বলে বেরিয়ে গিয়েছিল শাহিন। তারপর আর খোঁজ মেলেনি। পরদিন অভিযুক্ত বাপির বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে তার দেহ উদ্ধার হয়। মৃতদেহ উদ্ধারের বিক্ষোভ দেখান পরিবার ও স্থানীয়রা। সেই বিক্ষোভে ছিলেন অভিযুক্ত বাপিও। খুনিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর উপর কারও সন্দেহ হয়নি।
তদন্ত শুরু হতেই পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। সেই সময় বাপির বয়ানে সন্দেহ হয় পুলিশ। নজর রাখা হয় তাঁর উপর। এদিকে তদন্তে নামে সিআইডি ও ফরেনসিক টিমও। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু সরাসরি কোনও সূত্র পাওয়া যাচ্ছিল না। তাহলে কী করে গ্রেপ্তার করা হল বাপিকে?
ধৃত নাম বাপি মণ্ডল।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই তদন্ত নতুন মোড় নেয়। খুনের সময় শাহিনের পা বাঁধতে যে কাপড় ব্যবহার করা হয়েছিল, তার একটি অংশ ধৃতের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়। এছাড়াও মৃতের মাথায় চুলের মধ্যে থেকে পাওয়া কিছু নমুনার সঙ্গে অভিযুক্তের বাড়িতে পাওয়া নমুনার মিল মিলেছে।
ডোমকলের এসডিপিও শুভম বাজাজ জানান, "মৃতের শরীর থেকে এমন কিছু নমুনা পাওয়া গিয়েছে, যার সঙ্গে অভিযুক্তের বাড়িতে পাওয়া অবশিষ্টাংশের মিল রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখেই পুলিশ তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায়। পরে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।" খয়রামারী গ্রাম পঞ্চাতেয়ের প্রধান মিঠুন বিশ্বাস জানান, "ধারনা করা হচ্ছে ধৃতের স্ত্রীয়ের সঙ্গে শাহিনের অবৈধ সম্পর্কের জেরেই তাঁকে খুন করা হয়েছে।" ধৃতের স্ত্রীর সঙ্গে সাহিনের কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বাপির মা মুর্শিদা বিবি ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “আমার ছেলে নির্দোষ। শাহিন নিখোঁজের দিন ও বাড়িতে ছিল না। চক মথুরায় পিসির বাড়িতে গিয়েছিল। শাহিনকে পাওয়া যাচ্ছে না শুনে রাত ন’টার দিকে বাড়ি ফেরে।" ধৃত বাপি মণ্ডলেরও দাবি, "আমি নির্দোষ। থানায় ডেকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হল।" অন্যদিকে, ছেলের খুনের ঘটনায় ভাইপো গ্রেপ্তার হলেও শাহিন বাবা রমজান মণ্ডল এ বিষয়ে কিছু বলতে চাননি। তিনি শুধু বলেন, “যা করার পুলিশ করছে। আমি শুধু চাই আমার ছেলের খুনির শাস্তি হোক।"
