সেবাশ্রয়ের ভুলে মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হন দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলার বাসিন্দা মালতী বিশ্বাস। ভুল চিকিৎসায় সারাজীবনের মতো একটি পা হারান তিনি। তৃণমূল জমানায় দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার ওই পরিবার রাজ্যে পালাবদলের পরেই প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়। এবার সেই মামলাতেই অভিযুক্তদের বেশ কয়েকজনকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৯ তারিখ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনগর থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এর পরই ওই মহিলার পরিবারকে ডেকে পাঠানো হয় স্বাস্থ্য ভবনে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় কথা বলেন তাঁদের সঙ্গে। দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছিলেন ভুক্তভোগীর পরিবারকে। মুখ্যমন্ত্রীও ফোনে যোগাযোগ করেন তাঁদের সঙ্গে। ৫ দিনের মধ্যেই এবার অ্যাকশন শুরু পুলিশের। রবীন্দ্রনগর থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। জানা গিয়েছে, শুক্রবার খোকন বেহরা সহ বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে থানায় ডেকে পাঠায় পুলিশ। সূত্রের খবর, খোকন বেহরা নামে ওই ব্যক্তি মহেশতলা এলাকায় সেবাশ্রয় পরিচালনা ও স্থানীয়দের ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যম হিসেবে কাজ করতেন। এদিন মহেশতলা পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সব্যসাচী বসু ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুমন রায়চৌধুরীকেও রবীন্দ্রনগর থানায় তলব করা হয়। সূত্রের খবর, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন কাউন্সিলররা। জানা গিয়েছে, তৃণমূল কাউন্সিলরদের কাছ থেকে সেবাশ্রয়ের খুঁটিনাটি জানতে চাওয়া হয়েছে। তাঁরা বলেছেন, 'যতটুকু জানি, পুলিশকে জানিয়েছি। তদন্তের স্বার্থে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা করতেও রাজি। তলব করা হলে আবার থানায় আসব।' এই মামলায় অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন এসডিপিও(শিল্প) ধীমান মিত্র।
হাতুড়ে কিংবা পড়ুয়া ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা। মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিলি রোগীদের। রাজ্যে পালাবদল হতেই ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয়ের বিরুদ্ধে এমন ভূরি ভূরি অভিযোগ ছিলই। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে ভয়ংকর তথ্য। জানা যায়, সেবাশ্রয়ে ভুল চিকিৎসার জন্য নাকি পা বাদ গিয়েছে এক মহিলার। বিষয়টা ঠিক কী? দক্ষিণ ২৪ পরগনার আক্রার বাসিন্দা মালতী বিশ্বাস। অভিযোগ, হাঁটু ব্যথা নিয়ে সেবাশ্রয় ক্যাম্পে চিকিৎসার আশায় গিয়েছিলেন ওই মহিলা। সেখান থেকে প্রাথমিক চেকআপের পর তাঁকে বেশ কিছু ওষুধ দেওয়া হয়। সেই ওষুধ খেয়েই নাকি হাঁটুর ব্যথা ভয়ংকর বেড়ে যায়। ফের সেবাশ্রয়ে ব্যথা নিয়ে গেলে, তাঁকে রেফার করা হয় এমআর বাঙুর হাসপাতালে। অভিযোগ, হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁকে জানান, ভুল চিকিৎসায় পায়ের অবস্থা খারাপ। সেখান থেকে ওই মহিলাকে পার্কসার্কাস চিত্তরঞ্জনে রেফার করা হয়। অবশেষে ন্যাশনাল মেডিক্যালে ওই মহিলার পায়ের অস্ত্রোপচার হয়। একের পর এক ‘রেফার রোগে’ রীতিমতো দিনের পর দিন পায়ের অবস্থা খারাপ হতে থাকায় তাঁর পা কেটে বাদ দিতে হয়। পালাবদল হতেই রবীন্দ্রনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করে মহিলার পরিবার। ঘটনার জল গড়ায় স্বাস্থ্যদপ্তর পর্যন্ত। গত সোমবার নথি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন মালতিদেবীর ছেলে ও স্বামী। তাঁদেরও দাবি, করুণ পরিণতির পর বহুবার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সেবাশ্রয় ক্যাম্পের ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিতেই চাননি বলে অভিযোগ। এবার সেই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হতেই বুক কাঁপছে বাকিদের? কান টেনে মাথাকে টার্গেট পুলিশের?
