shono
Advertisement

বাম সরকারের দেনায় ধুঁকছে রাজ্য, তবু থামবে না উন্নয়ন

তৃণমূল ২১১টি আসনে জিতলেও ২৯৪টি আসনের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবেই কাজ করে যাবেন মমতা৷ বিরোধীরা জিতেছে বলে সেই কেন্দ্রে উন্নয়ন হবে না, সেই ‘রীতি’ অন্তত তাঁর জমানায় হবে না৷ The post বাম সরকারের দেনায় ধুঁকছে রাজ্য, তবু থামবে না উন্নয়ন appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 02:37 PM Jun 04, 2016Updated: 09:07 AM Jun 04, 2016

স্টাফ রিপোর্টার: উন্নয়ন সবার জন্য৷ উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভোটের রায় দেখা হবে না৷ রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন করতে হবে৷ তাঁর নেতৃত্বে দ্বিতীয় সরকারের প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের মন্ত্রী-সচিব ও জেলাশাসক-পুলিশ সুপারদের এই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নেমে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, আমরা-ওরা বা ২৩৫-৩০ নয়, তৃণমূল ২১১টি আসনে জিতলেও ২৯৪টি আসনের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবেই কাজ করে যাবেন মমতা৷ বিরোধীরা জিতেছে বলে সেই কেন্দ্রে উন্নয়ন হবে না, সেই ‘রীতি’ অন্তত তাঁর জমানায় হবে না৷ একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন, যেভাবে পরিষেবা করের নামে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ানো হয়েছে, তিনি তার ঘোরতর বিরোধী৷ তাই বৈঠকের পরে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, “ভাত দেওয়ার ক্ষমতা নেই, কিল মারার গোসাঁই৷”
টাউন হলে শুক্রবারের বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ উন্নয়নকে পাখির চোখ করেছেন মমতা৷ জোর দিয়েছেন, মানুষের কল্যাণকারী প্রকল্পেই৷ তাঁর মন্তব্য, “বাংলা হবে বিশ্বসেরা৷ এটাই মিশন৷ নতুন ডাক৷ চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজে নামার শপথ৷” মুখ্যমন্ত্রী কথা রেখেই জঙ্গলমহল থেকে জেলাস্তরের প্রশাসনিক বৈঠক শুরু করছেন৷ আগামী ১৪ জুন ঝাড়গ্রামে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন৷ ২৫ জুন আলিপুরদুয়ার জেলা তৈরির বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাবেন তিনি৷ এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, ভোটের বিজ্ঞপ্তির জন্য অনেক দেরি হয়েছে৷ আর কাজ ফেলে রাখা যাবে না৷ মন্ত্রী-সচিবদের জেলায় জেলায় ছুটতে হবে৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “ইলেকশনের সময় যে প্রকল্পগুলি বন্ধ হয়েছিল, সেগুলি নতুন করে চালু করা হবে৷” উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়ে বকেয়া কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তাই সিদ্ধান্ত হয়েছে, কোনও তথ্য থাকলেই নির্দিষ্ট দফতরের নোডাল অফিসার মারফত তথ্য-সংস্কৃতি দফতরকে জানাতে হবে৷ সংবাদমাধ্যমকে জানানোর দায়িত্ব নেবেন তথ্য ও সংস্কৃতি সচিবই৷ পরিষেবা কর ও আধার কার্ড নিয়েও সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “গরিব আধার কার্ড পায়নি৷ বাধ্যতামূলক হলে গরিব বঞ্চিত হবে৷ প্রত্যেকটি পেশাকে তাদের মতো করে দেখতে হবে৷ ২০-৩০ শতাংশ কার্ড পায়নি৷ তাহলে কীভাবে বাধ্যতামূলক হবে?” পরিষেবা কর নিয়ে তাঁর বক্তব্য, “এখন মেডিক্লেমেও পরিষেবা কর দিতে হবে৷” নিজের মেডিক্লেমের বিষয়ও জানান তিনি৷
বিরাট জয়ের পর এটিই প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক ছিল৷ গত সরকারে ১২১টি প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন মমতা৷ জেলায় পৌঁছে গিয়েছিল গোটা সচিবালয়৷ এদিন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ১২২তম প্রশাসনিক বৈঠক ছিল মমতার৷ টাউন হলে ছিল উৎসবের মেজাজ৷ মন্ত্রী থেকে আমলা, প্রত্যেকের মুখে ছিল হাসি৷ গত বছরের ২৯ জানুয়ারি শেষ রিভিউ মিটিং হয়েছে৷ তখন বৈঠকেও মমতা বলেছিলেন, আবার নতুন সরকারের বৈঠকে দেখা হবে৷ সেই কথা মনে করিয়েছেন কেউ কেউ৷ মন্ত্রী-আমলারা বকাঝকা নিয়ে সতর্ক ছিলেন৷ কিন্তু সেসবের ধারেও যাননি মুখ্যমন্ত্রী৷
বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে, সরকারি কাজে স্বচ্ছতায় একশো শতাংশ ই-টেন্ডারিং চালু করা, এসএমএস-এর মাধ্যমে অভিযোগ ও অনলাইনে বিদ্যুতের বিল জমা দেওয়া যাবে৷ এই ক্ষেত্রে মমতার দার্শনিকসুলভ মন্তব্য, “জীবন ছাড়া সব কিছুই অনলাইনে চলে যাবে৷ জীবন স্থবির হয়ে যায়৷” সবুজসাথী প্রকল্পের ক্ষেত্রে যে ১৫ লক্ষ সাইকেল দেওয়া বাকি রয়েছে, সেই ক্ষেত্রেও নতুন বরাত দেওয়া হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান৷ এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, হাসপাতালে প্রসবের ক্ষেত্রে মালদহ ও উত্তর দিনাজপুর জেলা পিছিয়ে রয়েছে৷ স্বাস্থ্যে ৮৭ শতাংশ সাফল্য এসেছে৷ এটা ৯০ শতাংশ করা হবে৷ একশো দিনের কাজে বাংলা মডেল হয়েছে৷ জুলাই-আগস্টে সবার ঘরে আলো প্রকল্পে একশো শতাংশ সাফল্য আসবে বলে মুখ্যমন্ত্রীর আশা৷ মাছ থেকে লঙ্কা-পিঁয়াজের চাষে জোর দিতে বলেছেন তিনি৷ পরিবহণে বাস বাড়ানোর পাশাপাশি টোটোর সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে৷ বর্ষায় মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুত থাকতে বলেছেন সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ প্রত্যেকের হাতে ডিজিটাল রেশন কার্ড তুলে দিতে উদ্যোগ নিতে বলেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে৷ সাংবাদিক বৈঠকে মমতার পাশে ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়, অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায়রা৷
রাজ্য বাজেটের আগে দফতরগুলির কাজ চালাতে অর্থ দফতর আপাতত ১১৫৭৩ কোটি টাকা মঞ্জুর করছে৷ বাম সরকারের দেনার জন্য কেন্দ্রকে ৪০ হাজার কোটি টাকা করে দিতে হচ্ছে৷ দেনা সত্ত্বেও গত আর্থিক বছরে উন্নয়নমূলক কাজে রাজ্যের সাফল্য এদিনও তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ ২০১০-১১ আর্থিক বছরে পরিকল্পনা খাতে ব্যয় হয়েছিল ১৪ হাজার কোটি টাকা, এখন সেই খরচ হয়েছে ৫৩ হাজার কোটি টাকা৷ গত আর্থিক বছরের বাজেট বরাদ্দ ৪৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে খরচ হয়েছে ৫৩ হাজার কোটি টাকা৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “সারা দেশেই এটি নজিরবিহীন৷”

Advertisement

The post বাম সরকারের দেনায় ধুঁকছে রাজ্য, তবু থামবে না উন্নয়ন appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement