রাজনৈতিক পালাবদলের পর এখনও পর্যন্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সাক্ষী থেকেছেন বঙ্গবাসী। তার মধ্যে অন্যতম ধর্মীয় কারণে প্রকাশ্যে পশুনিধন রদ। গত ১৩ মে আইনি অনুমোদন সাপেক্ষে রাজ্যে এধরনের পশুবলি প্রথা বন্ধের নির্দেশ জারি করেছে নতুন বিজেপি সরকার। তা নিয়ে স্বভাবতই আপত্তি উঠেছে সংখ্যালঘু মহলে। ধর্মাচরণে আঘাতের অভিযোগে সরব নওদার আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক তথা দাপুটে নেতা হুমায়ুন কবীর। কিন্তু তাঁর অভিযোগ কার্যত হুঙ্কারে উড়িয়ে দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। হুমায়ুনকে তাঁর সাফ বার্তা, এ রাজ্যে থাকতে হলে সরকারি নিয়ম মেনেই থাকতে হবে। নইলে অন্য যে কোনও জায়গায়, এমনকী দেশের বাইরে মুসলিম দেশেও চলে যেতে পারেন।
এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অগ্নিমিত্রার সাফ কথা, “হুমায়ুন কবীর, যদি বাংলায় থাকতে চান তাহলে নিয়ম মেনেই চলতে হবে। যদি মনে করেন, এসব মানবেন না, তাহলে যেখানে খুশি চলে যান। দেশের বাইরে অন্য কোনও মুসলিম দেশেও চলে যেতে পারেন, সেখানে আপনার নিয়ম আপনি রক্ষা করবেন। কিন্তু ভারতে থাকতে হলে এদেশের নিয়মই মানতে হবে।''
দিন কয়েক ধরেই ধর্মাচরণের অঙ্গ হিসেবে প্রকাশ্যে পশুবলি বা কুরবানি প্রথা বন্ধের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে। এর মূল কারণ, গত ৪ মে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন বিজেপি সরকার এসে এই প্রথা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। সেইমতো আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে তা বন্ধের নির্দেশিকা জারি হয়েছে। এনিয়ে যথারীতি নানা জনের নানা মত। কেউ শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন, তো কারও কারও আপত্তি উঠেছে দীর্ঘদিনের প্রথা আচমকা বন্ধ করে দেওয়ায়।
আগামী ২৭ তারিখ মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম পরব বকরি ইদ। এই ইদে প্রকাশ্যে পশু 'কুরবানি' দেওয়ার রীতি রয়েছে সংখ্যালঘু সমাজে। এর সঙ্গে অবশ্য জড়িয়ে ধর্মীয় আচার। কিন্তু পরবের কয়েকদিন আগেই তা বন্ধ হওয়ায় আপত্তি ওঠে মুসলিমদের মধ্যে। তাঁদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিধায়ক হুমায়ুন কবীর সোচ্চার হন। তাঁর বক্তব্য, ৩৭ শতাংশ মুসলিমই গোমাংসভোজী। যদি কুরবানি বন্ধ করতে হয়, তাহলে সমস্ত কসাইখানাও বন্ধ হওয়া উচিত। আর কুরবানি ধর্মীয় প্রথা, তা রাতারাতি এভাবে নিষিদ্ধ করা যায় না।
তাঁর এহেন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল রীতিমতো কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন। এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অগ্নিমিত্রার সাফ কথা, “হুমায়ুন কবীর, যদি বাংলায় থাকতে চান তাহলে নিয়ম মেনেই চলতে হবে। যদি মনে করেন, এসব মানবেন না, তাহলে যেখানে খুশি চলে যান। দেশের বাইরে অন্য কোনও মুসলিম দেশেও চলে যেতে পারেন, সেখানে আপনার নিয়ম আপনি রক্ষা করবেন। কিন্তু ভারতে থাকতে হলে এদেশের নিয়মই মানতে হবে।''
