ট্রাইব্যুনাল ও সিএএতে আবেদন করেছেন হিন্দু 'শরণার্থী' পরিবার। এ দিকে রেশন নিতে গিয়ে দেখেন নিচ্ছে না বায়োমেট্রিক। খোঁজ খবর করতেই জানতে পারেন রেশন তালিকা থেকে বাদ পরিবারের ৪ জনের নাম। কারণ ভোটার তালিকায় নাম নেই। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুরে। এই ঘটনার পর নাম বাদ যাওয়া বাকি বাসিন্দারাও ছুটছেন বিডিও অফিসে।
শান্তিপুর ব্লকের বড়জিয়াকুড় গ্রামের বাসিন্দা মিঠুন সরকার। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় বাদ গিয়েছে বাবা-মা, তাঁর ও দাদার নাম। নিয়ম মেনে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন। সেখানে ঝুলে রয়েছে তাঁদের নাম। এ দিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অর্থাৎ সিএএতেও আবেদন করেছেন। কোনও ক্ষেত্র থেকেও 'উত্তর' আসেনি। নাম যুক্ত হয়নি ভোটার তালিকায়।
মিঠুনের দাবি, প্রতিমাসের মতো রেশন তুলতে যান। জানতে পারেন, পরিবারের সদস্যদের নাম রেশন ব্যবস্থার তালিকায় নেই। রেশন ডিলার তাঁকে বিডিও অফিসে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে মিঠুন বিডিও অফিসে যান। তাঁকে জানানো হয়, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত রেশন পরিষেবা পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়। তবে লিখিত আকারে কিছু বলা হয়নি বলেই জানিয়েছেন তিনি।
মিঠুন বলেন, "ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে। ট্রাইব্যুনাল ও সিএএতে আবেদন করেছি। এ দিকে রেশন নিতে এসে দেখি বায়োমেট্রিক নিচ্ছে না। পরে অনলাইন থেকে জানতে পারি রেশন তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে। বিডিও অফিসে গিয়ে জানতে পারি ভোটার তালিকায় নাম নেই বলে রেশন থেকে নাম বাদ গিয়েছে।"
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ট্রাইব্যুনালে নাম থাকার পর, রেশন পাচ্ছে এমন কয়েকজনও ছুটে গিয়েছেন বিডিও অফিসে। কাগজপত্র নিয়ে বিডিও অফিসে হাজির সুশীল শর্মা বলেন, "ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে। ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছি। রেশন পাচ্ছি। কিন্তু যদি নাম বাদ যায় তাই এসেছি।" প্রশাসন সূত্রে খবর, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রেশন কার্ডের যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁদের শনাক্ত করতে এই যাচাই প্রক্রিয়া। তবে যাঁরা বিচারাধীন থাকার পর ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন তাঁরা রেশন পাবেন বলেই জানানো হয়েছে। সিএএতে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। তবে শান্তিপুরের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
