শান্তনু কর, জলপাইগুড়ি: এক বৃদ্ধার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল জলপাইগুড়িতে। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, সন্দেহভাজন স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বৃদ্ধা। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন বৃদ্ধার স্বামী। তাঁর দাবি, তিনি নিজেই স্ত্রীর হাতে অত্যাচারিত হতেন। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ।
শুক্রবার সকালে জলপাইগুড়ি ১৪ ওয়ার্ডের পাণ্ডাপাড়া এলাকার ৩ নম্বর গলির বাসিন্দা বছর সত্তরের ধর্মদাস ভট্টাচার্যের স্ত্রী শিপ্রার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, বৃদ্ধর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বৃদ্ধা। প্রতিবেশী প্রকাশ রাই, গণেশ চক্রবর্তীদের অভিযোগ, মৃতার স্বামীর অত্যন্ত সন্দেহবাতিক। স্ত্রীর উপর অত্যাচার করতেন। নিজে হোটেলে খেতেন। স্ত্রীকে খেতে দিতেন না।
[আরও পড়ুন: কোচবিহারে লাগাতার অশান্তি, ভোটের মুখে বাড়ল নিশীথের নিরাপত্তা]
বিমা সংস্থায় বড় পদে চাকরি করতেন বৃদ্ধ। দুই মেয়ে। বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বাবা, মায়ের অশান্তিতে নাক গলাতেন না তাঁরা। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে বৃদ্ধা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। অভিযোগ অস্বীকার করেন বৃদ্ধ ধর্মদাস ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, পারিবারিক সমস্যা দীর্ঘদিনের। বিষয়টি লিগাল এইড ফোরাম পর্যন্ত গড়িয়েছে। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রী খেতে দিতেন না বলেই একপ্রকার বাধ্য হয়ে হোটেলে খেতেন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। জলপাইগুড়ি পুলিশের ডিএসপি হেডকোয়ার্টার সমীর পাল বলেন, “এক বৃদ্ধার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তাঁর দেহ উদ্ধার করে অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।” তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ দায়ের হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
