ফ্ল্যাট থেকে ব্যবসায়ীকে তুলে ক্লাবে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ! এমনকী প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। বরানগরের তৃণমূল নেতার এহেন দাদাগিরির অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও গোটা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আইএনটিটিইউসি নেতা শংকর রাউতের। দু'পক্ষই এই নিয়ে বরানগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে দু'পক্ষের অভিযোগই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ব্যবসায়ী সুদীপ্ত ঘোষের ইন্টিরিয়র ডিজাইনের ব্যবসা। তিনি বরানগরের দেশবন্ধু রোডের একটি আবাসনে থাকেন। সম্প্রতি এক আইনজীবীর বারাসতে কেনা ফ্ল্যাটে ইন্টিরিয়রের কাজ নিয়ে বিবাদের সূত্রপাত। এনিয়ে আইনজীবীর পরিবারের দাবি, টাকা দেওয়ার পরেও সুদীপ্ত কাজ করেনি। এরই মীমাংসার জন্য আইনজীবী বরানগরের ওই তৃণমূল নেতার সাহায্য চান। অভিযোগ, এরপরেই শুক্রবার রাতে তৃণমূল নেতা শংকর রাউতের নির্দেশে ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়েন তাঁর দলবল ব্যবসায়ীকে হিঁচড়ে পাঁজা-কোলা করে তুলে নিয়ে যায়। গোটা এই ঘটনা ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাট ও আবাসনে সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে। এরপরে স্থানীয় একটি ক্লাবে নিয়ে গিয়ে তৃণমূল নেতা দাঁড়িয়ে থেকে ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করা বলে অভিযোগ। এমনকী প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।
যদিও কাজ করার পরেও টাকা বকেয়া থাকায় কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন জানিয়ে সুদীপ্ত ঘোষ বলেন, ''তৃণমূল নেতার দলবল এক লক্ষ টাকা তোলা চেয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই হুমকি দিচ্ছিল। টাকা দিতে অস্বীকার করায় শুক্রবার রাত আটটা নাগাদ ওই তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ঠরা আমার ফ্ল্যাটে চড়াও হয়। তার পর যা ঘটনা ঘটেছে তা অবর্ণনীয়। নিজেকে বাঁচাতে ওই তৃণমূল নেতার এখন মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন।" পাল্টা তৃণমূল নেতা শংকর রাউত বলেন, "আইনজীবী দম্পতির থেকে ইন্টেরিওর কাজের জন্য টাকা নিয়ে কাজ করেনি। ওই দম্পতি টাকা চাইলে উল্টে আমার নাম করে হুমকি দেয়। দিন দুয়েক আগে সেই দম্পতি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর শুক্রবার সুদীপ্তকে ফোনে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে বলি। এরপরও একটা মিথ্যে গল্প রচনা করেছে। ঘটনার প্রশাসনিক পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।"
