সত্য সম্পর্কে স্বামী বিবেকানন্দর অমর বাণীকে কিছুটা পাল্টে এভাবে কি বলা যায় যে আদর্শের জন্য সবকিছু ত্যাগ করা যায়, কিন্তু কোনও অবস্থায় আদর্শকে ত্যাগ করা যায় না? আদর্শবাদী মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় সত্য তো সেই আদর্শই। কতকটা এই তারেই বঁাধা রয়েছে দেবালয় ভট্টাচার্যর নতুন ওয়েব সিরিজ ‘গোর্কির মা’।
পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কিছু শব্দবন্ধ আছে যাকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্লোগান বলে দেগে দেওয়া যায় না। তেমনটা হলে রাশিয়ার শ্রমিকের সঙ্গে লাতিন আমেরিকার কৃষকের বক্তব্য একরকম হতে পারত না। ক্ষুধার্ত মানুষের স্বরকে সারা পৃথিবীর কাছে পৌঁছে দিতে বিপ্লব হয়েছে বার বার। বর্তমানেও হচ্ছে, আগামী দিনেও হবে, কারণ বিপ্লবের মৃত্যু নেই।
শহরতলির নিঝুম এক পাড়ায় পুরনো বাড়িতে একা থাকেন মধ্যবয়স্কা লাবণ্য (অনন্যা চট্টোপাধ্যায়)। সেই বাড়ি ভেঙে ফ্ল্যাট করতে চায় প্রোমোটার। আনকোরা নতুন এক মাস্তান মানিকের (সৌরভ দাস) ওপর ভার পড়ে লাবণ্যকে চাপ দিয়ে, ভয় দেখিয়ে বাড়ি বিক্রির দলিলে সই করাতে। কিন্তু মধ্যবয়স্কা একা মহিলাকে মানিক যতটা দুর্বল ভেবেছিল ততটা তিনি নন। কথা কাটাকাটির সময়ে হঠাৎ ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে লাবণ্যর ছেলে গোর্কি (সোহম বসু রায়)। আচমকা ঘটে যায় দুর্ঘটনা। বাকি রাতটা কীভাবে কাটে লাবণ্য আর মানিকের, সেই নিয়েই এই সিরিজ।
পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কিছু শব্দবন্ধ আছে যাকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্লোগান বলে দেগে দেওয়া যায় না। তেমনটা হলে রাশিয়ার শ্রমিকের সঙ্গে লাতিন আমেরিকার কৃষকের বক্তব্য একরকম হতে পারত না। ক্ষুধার্ত মানুষের স্বরকে সারা পৃথিবীর কাছে পৌঁছে দিতে বিপ্লব হয়েছে বার বার। বর্তমানেও হচ্ছে, আগামী দিনেও হবে, কারণ বিপ্লবের মৃত্যু নেই। এই আদর্শে যারা ব্রতী তাদের জীবনটা আর খুব সাধারণ থাকে না। যেমনটা ছিল না ম্যাক্সিম গোর্কির ‘মা’ উপন্যাসে পাভেলের মায়ের। জীবনে বহু যন্ত্রণা সহ্য করে একসময় ছেলের হাত ধরে বিপ্লবকে চিনতে শিখেছিল সেই নারী। এই সিরিজে গোর্কির মা লাবণ্য নিজেই ছেলেকে বিপ্লবের সঙ্গে পরিচয় করিয়েছেন। প্রত্যাশা রেখেছেন তাঁর নিজের সারাজীবনের লড়াইকে সার্থক করবে তাঁর ছেলে। কিন্তু শোষণের বিরুদ্ধে যে বিপ্লব সেই বিপ্লবে কাউকে জোর করে টেনে আনাও কি শোষণ নয়? প্রশ্ন রেখে যায় মনস্তাত্ত্বিক এবং রাজনৈতিক এই সিরিজ।
‘গোর্কির মা’ সিরিজে অনন্যা চট্টোপাধ্যায়
কিছু স্বপ্ন এবং কিছুটা অতীত নিয়ে একটি রাতের কাহিনি ‘গোর্কির মা’। সিরিয়াস বিষয় হওয়ার কারণে সব ধরনের দর্শকের হয়তো পছন্দ নাও হতে পারে। তবে বিষয় নির্বাচন সাহসী। সিরিজের কাহিনি পরিচালক দেবালয়েরই লেখা। অভিনয়ে মুগ্ধ করেছেন অনন্যা, সৌরভ, অর্জুন ঘোষ (ব্রতী), রাজেশ্বরী পাল (তরুণী লাবণ্য) এবং সোহম। রিয়ার চরিত্রে দর্শনা অন্যরকম সুন্দর। চিত্রনাট্য আর একটু গতিশীল হতে পারত। অমিত চট্টোপাধ্যায়ের সুরে ‘ভালোবাসার গান’ এবং সৃজন ভট্টাচার্য রচিত ‘এসো হে বন্ধু গানে গানে বলা যাক না’ গান দুটি সিরিজের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে গিয়েছে। চিত্রগ্রহণ প্রশংসনীয়।
