রাজা দাস, বালুরঘাট: মাধ্যমিকে মেয়ের তাক লাগিয়ে দেওয়া রেজাল্ট খুশিতে ভরিয়ে দিয়েছিল পরিবারটিকে। রিয়া দাস, কুমারগঞ্জের এই ছাত্রীর মাধ্যমিকের প্রাপ্ত নম্বর ৬৪৩। আনন্দের রেশ কাটিয়ে এবার বাস্তবে ফিরছে কুমারগঞ্জের পরিবারটি। সেই সঙ্গে বাড়ছে চিন্তা। হতদরিদ্র পরিবারের দিন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা। কীভাবে চলবে মেয়ের উচ্চশিক্ষার খরচ? কোনও সহৃদয় ব্যক্তি এসে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন, এমনটাই চাইছেন রিয়ার বাবা বিলাসচন্দ্র দাস।
[বাস-বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু মা ও মেয়ের, রণক্ষেত্র সিউড়ি]
জানা গিয়েছে, কুমারগঞ্জ ব্লকের মূলগ্রাম এলাকায় বাড়ি রিয়াদের। বাবা বিলাসবাবু কৃষিকাজ করেই সংসার চালান। অমানসিক পরিশ্রম করে মেয়ের পড়াশোনার খরচ সামলেছেন এতদিন। কিন্তু উচ্চশিক্ষার খরচ এভাবে জোগার করতে অপারগ তিনি। এমনিতেই অভাবের সংসারে রিয়ার কোনও টিউশন ছিল না। স্কুলের শিক্ষক ও এলাকার কয়েকজন সহৃদয় মানুষের সহযোগিতায় সে তার জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে। সঙ্গে ছিল নিয়মিত পড়াশোনা। বরাবরের মেধাবী ছাত্রী রিয়ার রেজাল্টও তাই প্রংশসনীয়। বাংলায় ৮৩, ইংরেজিতে ৮৫, ভৌতবিজ্ঞানে ৯৮, জীবনবিজ্ঞানে ৯০, ইতিহাসে ৯৫, ভূগোলে ৯৪। মেয়ের এই অভাবনীয় সাফল্যে খুশি এলাকার বাসিন্দারাও। গর্বিত সীতাহার মূলগ্রাম হাইস্কুল কর্তৃপক্ষও।
[মা পরিচারিকা-বাবা দিনমজুর, মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়ে কুঁড়েঘরের সাঁঝবাতি মিঠানির রিতু]
এই প্রসঙ্গে স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাভেদ আলি জানান, যোগ্যতা অনুযায়ীই সাফল্য পেয়েছে রিয়া। শুধু স্কুলের গর্বই নয়, এখন গোটা জেলার গর্ব সে। কঠোর অধ্যাবসায়, একাগ্রতা, মেধা রিয়ার এমন সাফল্য আনতে সাহায্যে করেছে। তার উচ্চশিক্ষায় স্কুল সবরকম ভাবে পাশে থাকবে। মেধাবী ছাত্রীটি শুধু পড়ার বই নিয়েই গোটা দিন কাটায়, এমন নয়। মাঝে মাঝে স্কুলের লাইব্রেরি থেকে গল্পের বই নিয়ে এসেও পড়াশোনা করে। নিজের সাফল্যে খুশি রিয়াও। তবে তার সাফল্যের জন্য যারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁদের ধন্যবাদ দিতে ভোলেনি সে। তবে একটাই স্বপ্ন এখন দেখছে, ভবিষ্যতে কলেজের শিক্ষিকা হতে চায় রিয়া।
ছবি: রতন দে
The post মাধ্যমিকে তাক লাগিয়ে দেওয়া রেজাল্ট, মেয়ের উচ্চশিক্ষার জন্য সাহায্য প্রার্থনা বাবার appeared first on Sangbad Pratidin.
