Advertisement
শরীরে কোনও ট্যাটু নেই রোনাল্ডো-এমবাপেদের, কারণ জানলে কুর্নিশ জানাবেন!
তাঁরা প্রমাণ করেছেন, আলাদা হওয়ার জন্য সব সময় শরীরে রঙের প্রয়োজন হয় না।
আকাশছোঁয়া বেতন পান ফুটবলের তারকারা। প্রতি সপ্তাহে ২ লক্ষ পাউন্ডের বেশি আয় করেন। সেই টাকায় কেউ গাড়ি-বাড়ি করেন। কেউ শরীরকে ‘সাজাতে’ ট্যাটু আঁকান। লিওনেল মেসি, নেইমারদের গোটা শরীরেই ট্যাটু রয়েছে। কিন্তু স্রোতের বিপরীতে হাঁটা ফুটবলারদের তালিকাও কম নয়। তালিকায় রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, কিলিয়ান এমবাপে, মহম্মদ সালাহদের নাম। তাঁরা প্রমাণ করেছেন, আলাদা হওয়ার জন্য সব সময় শরীরে রঙের প্রয়োজন হয় না।
বিশ্ব ফুটবলের অসংখ্য রেকর্ডের মালিক রোনাল্ডো। তাঁর শরীরে কোনও ট্যাটু নেই। ২০১২ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমি ট্যাটু করাইনি যাতে আমি ঘন ঘন রক্তদান করতে পারি।” ২০১১ সালে সতীর্থ কার্লোস মার্টিন্সের ছেলে অসুস্থ ছিল। রক্তের প্রয়োজন ছিল তার। তখন থেকেই রক্তদান শুরু করেন সিআর। এরপর থেকে আরও বেশি মানুষের পাশে দাঁড়াতে শরীরকে ট্যাটুমুক্ত রাখার সিদ্ধান্তে আজও অটল তিনি।
মিশরের অন্যতম সেরা ফুটবলার মহম্মদ সালাহ। প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়। তবে জীবনযাপন ব্যতিক্রমী। ‘মিশরীয় মেসি’র শরীরে নেই কোনও ট্যাটু। কারণ, ইসলাম ধর্মে ট্যাটু নিষিদ্ধ। এই উইঙ্গার আগে বলেছিলেন, “আমার শরীরে কোনও ট্যাটু নেই। আমি চুলের স্টাইল বদলাই না। নাচতে জানি না। আমি কেবল ফুটবল খেলতে চাই।”
বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর অবসর নিয়েছেন সাদিও মানে। তাঁর ১৪ বছরের বর্ণময় কেরিয়ারের ইতি ঘটিয়ে বুট জোড়া তুলে রেখেছেন। লিভারপুলে অসাধারণ সাফল্য পাওয়া সেনেগালের এই তারকার শরীরেও নেই কোনও ট্যাটু। কারণ, তিনি ইসলাম ধর্মের অনুসারী। ধর্মীয় অনুশাসন মেনেই ট্যাটু থেকে দূরে থাকেন ৩৪ বছর বয়সি তারকা।
মাত্র ২৫ বছর বয়সেই ফরাসি ফুটবলের অন্যতম মুখ কিলিয়ান এমবাপে। ফরাসি ড্রেসিংরুমে তাঁকে সতীর্থরা মজা করে ডাকেন, ‘ডোনাটেলো’। নামটা ফরাসি ড্রেসিংরুমে এসেছে প্যারিস সাঁ জাঁ ড্রেসিংরুম থেকে। মাঠে তাঁর গতি যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করে, তেমনই সাদামাটা জীবন কাটাতে পছন্দ করেন। ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তেই তিনি এখন পর্যন্ত ট্যাটু থেকে দূরে রয়েছেন। ভবিষ্যতে এই অভ্যাসের কোনও পরিবর্তন আসবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
রবার্ট লেওয়নডস্কি সর্বকালের অন্যতম সেরা পোলিশ ফুটবলার। বায়ার্ন মিউনিখে প্রায় সব বড় শিরোপা জিতেছেন। বার্সেলোনাতেও সফল তিনি। দুরন্ত সাফল্য পেলেও সবসময় বিনয়ী থেকেছেন। প্রাক্তন কোচ জাভি বলেছিলেন, “রবার্ট এমনই। তাঁর অনুশীলনের ধরন, দলকে সাহায্য করার ধরন, বিনয় মন জয় করে নেয়। আমি ওর প্রশংসা করে শেষ করতে পারব না।” মনে হয়, এটাই তার শরীরে ট্যাটু না থাকার অন্যতম কারণ।
এন'গোলো কান্তে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার। লেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ জয়ের পর চেলসি এবং বর্তমানে আল-ইত্তিহাদের হয়েও ধারাবাহিকভাবে উজ্জ্বল তিনি। মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি তার বিনয়ী জীবনযাপনও প্রশংসিত। বিলাসবহুল জীবন এড়িয়ে চলা কান্তে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণেই শরীরে কখনও ট্যাটু করাননি।
রদ্রি গত কয়েক বছরে বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসাবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। ম্যাঞ্চেস্টার সিটি ও স্পেনের হয়ে অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন। ২০২৪ সালে ব্যালন ডি’অরও জেতেন। সাফল্যের পরও সংযত জীবনযাপন করেন। ২০১৯ সালে পেপ গুয়ার্দিওলা বলেছিলেন, “রদ্রির শরীরে কোনও ট্যাটু নেই। কানে দুলও নেই। ওর চুলের স্টাইল দেখলেই বোঝা যায়, ও একজন হোল্ডিং মিডফিল্ডার। একজন হোল্ডিং মিডফিল্ডারের এমনই হওয়া উচিত।”
আশরাফ হাকিমি বিশ্বের অন্যতম সেরা রাইট ব্যাক। পিএসজি ও মরক্কোর হয়ে ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত পারফর্ম করছেন তিনি। ২০২২ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে উঠেছিল মরক্কো। ঐতিহাসিক এই যাত্রায় আলো ছড়িয়েছিলেন হাকিমি। ইসলাম ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে হাকিমি ট্যাটু করান না। কেরিয়ারের সেরা সময়ে প্রবেশ করলেও তাঁর সিদ্ধান্ত অটল থেকেছে।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 08:28 PM Jul 11, 2026Updated: 09:12 PM Jul 11, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
