বারুইপুরের ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়নি। মাত্র ৩৫ বছর বয়সি যুবককে খুন করা হয়েছে। আর তাতে উসকানি দিতে পারে অতিবাম, ব়্যাডিকালরা। নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। এদিকে, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে অশান্তিতে ফুলতলায় নিহত প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা সাহায্য ঘোষণা করেন তিনি।
ইন্দ্রজিতের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "নাম, পরিচয় দেখে ইন্দ্রজিৎকে খুন করা হয়েছে। ভোটে যারা হেরেছে তাদের উসকানিতে খুন। ব়্যাডিকাল, মৌলবাদীরাও থাকতে পারে। অতিবামের ষড়যন্ত্রেও খুন হতে পারেন। যাদের ছবি দেখা গিয়েছে। সকলকে গ্রেপ্তার করেছে। দিঘা, বকখালি থেকে তুলেছে। একটা ৩৫ বছরের অবিবাহিত যুবককে যেভাবে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। তাতে ইন্দ্রজিতের খুনিদের সঙ্গে পেয়ার, মহব্বত নয়।"
পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করে আর্থিক সাহায্য এবং চাকরি দেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের তরফে নিহতের বাবা এবং মায়ের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। নিহতের দাদা বাপি মণ্ডলকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হয়েছে। সূর্যপুর পুলিশ ফাঁড়িতে পোস্টিং হবে তাঁর। দাঙ্গাকারীদের ভাঙচুরে ইন্দ্রজিতের বাড়ির ক্ষতি হয়। ওই বাড়ি সংস্কারের কাজ করে দেওয়া হয়েছে। বাবার বার্ধক্যভাতা এবং মায়ের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বলেন, "ইন্দ্রজিৎকে ফিরিয়ে দিতে পারব না। তবে খুনিদের চরম শাস্তি হবে।"
উল্লেখ্য, বারুইপুরের নাবালিকা গত ৪ জুলাই থেকে নিখোঁজ ছিল। পরদিন ৫ জুলাই, রবিবার সকালে পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, গণধর্ষণের পর তাকে খুন করা হয়েছে। ওই ঘটনায় এ পর্যন্ত চারজন গ্রেপ্তার হয়েছে। পুলিশি এনকাউন্টারে নিকেশ হয়েছে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। এদিকে ওই ঘটনার পর নাবালিকার দেহ নিয়ে সূর্যপুরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। এক যুবককে সন্দেহের বশে পিটিয়ে খুন করে উত্তেজিত জনতা। গত মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুরে গিয়ে জানান, গণপিটুনিতে যাঁর মৃত্যু হয়েছে, তিনি নির্দোষ ছিলেন। দোষীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাসও দিয়েছিলেন শুভেন্দু। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
