অপসারিত ফলতার প্রাক্তন বিধায়ক জাহাঙ্গির খান ঘনিষ্ঠ বিডিও শানু বক্সি। গত ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে শানু বক্সিকে ফলতায় বদলি করে আনা হয়। যদিও বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে সরিয়ে দেয় কমিশন। এরপর মালদহের হরিশচন্দ্রপুর-১-এর বিডিও ছিলেন তিনি। নবান্নের নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিডিও পদ থেকে অপসারিত শানু। স্টেট গেজেটিয়ার্স-এর ওএসডি দায়িত্ব দেওয়া হল তাঁকে। ধ্রুবাশিস সামন্তকে বিডিও করা হয়েছে। একইসঙ্গে নদিয়ার কৃষ্ণনগর-১ এর বিডিও রঞ্জন সর্দারকে স্টেট গেজেটিয়ার্স-এর ওএসডি করা হয়েছে। সেই জায়গায় পাঠানো হয়েছে গার্গী দাসকে।
'বিতর্কিত' বিডিও শানু বক্সির অপসারণ
গত ২১ মে ফলতা বিধানসভায় নির্বাচন ছিল। ভোটের আগেই হঠাৎ করেই জাহাঙ্গির নিজেকে ভোটের ময়দান থেকে সরিয়ে নেন। যা নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে তৈরি হয়েছে গৃহদাহ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ এই নেতার কীর্তি নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। এর মধ্যেই তৎকালীন বিডিও শানু বক্সি এবং জাহাঙ্গিরের গোপন চ্যাট ফাঁস করেন ফলতার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। তিনি দাবি করেন, এই ফলতায় ২০২৪ সালে ১ লক্ষ ২৪ হাজার ভোটের লিড পেয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পিছনে কারচুপি রয়েছে। আর ‘প্রমাণ’ হিসাবে বেশ কয়েকটি স্ক্রিনশট সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন বিজেপি নেতা। যদিও জাহাঙ্গির খানের সঙ্গে কথোপকথন প্রসঙ্গ সেই সময় উড়িয়ে দেন শানু বক্সি। তিনি দাবি করেন, "সবকিছু এআই দিয়ে করা হয়েছে। এখন সবটাই সম্ভব।"
শানু বক্সির বিরুদ্ধে জমি দুর্নীতির অভিযোগও ওঠে। মালবাজারের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ির পাশের যে জমিটি ২০২০ সালে শানু কিনেছিলেন, তা বাজারদরের চেয়ে ঢের কমদামে কেনা হয় বলে অভিযোগ। যদিও শানুর মা শংকরী বক্সি অভিযোগ খারিজ করে দেন। বলেন, “আমার মেয়ের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ মিথ্যে। ও অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছে। আমরা চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য সামনে আসুক।” এই টানাপোড়েনের মাঝে শানু বক্সিকে বিডিও পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নবান্নের।
