শঙ্কর রায়, রায়গঞ্জ: ফের গুজরাটে কাজে গিয়ে অত্যাচারের শিকার বাংলার শ্রমিক। অভিযোগ উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের বাসিন্দা সঞ্জয় দেবশর্মাকে শিকলে বেঁধে কাজ করানো হত। দেওয়া হত সিগারেটের ছ্যাঁকা। আট বছর পর বাড়ি ফিরে অত্যাচারের কথা জানান সঞ্জয়।
[শিশুর ক্যানসারের নামে লক্ষাধিক টাকার প্রতারণা, ফের সক্রিয় অসাধু চক্র]
ওই যুবককে কাজের জন্য গুজরাটে নিয়ে গিয়েছিল প্রতিবেশী শিব বর্মন ও টুলটুলি বর্মন। অভিযোগ কয়েক লক্ষ টাকার বিনিময়ে দুই প্রতিবেশী সঞ্জয়কে এক হোটেল মালিকের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এরপর তাঁর উপর শুরু হয় অকথ্য অত্যাচার। ছেলে কেন বাড়ি ফেরেনি। এর জবাবে শিব ও টুলটুলি জানিয়েছিল ট্রেন থেকে পড়ে মারা যায় সঞ্জয়। এরপর দেবশর্মা পরিবার বিশ্বাস করে নেয় তাদের সন্তান মারা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ছেলেকে দেখে রীতিমতো চমকে যান সঞ্জয়ের বাবা সুধীর দেবশর্মা ও মা স্বপ্না দেবশর্মা। পাড়া-প্রতিবেশীরাও পর্যন্ত বিশ্বাস করেছিলেন সঞ্জয় আর দুনিয়ায় নেই। সঞ্জয়ের মুখ থেকে তাঁর পরিবার ও প্রতিবেশীরা এ খবর জানতে পেরে ক্ষেপে যায়। শনিবার সকালে শিবু ও টুলটুলির বাড়িতে চড়াও হয় তার পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা। দু’জনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গাছের গুড়িতে বেধে বেদম মারা হয়। কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ দুই অভিযুক্তকে তুলে নিয়ে যায়। সঞ্জয়ের সঙ্গে কথা বলে। থানার আইসি বিচিত্র বিকাশ রায় জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’জনকে আটক করা হয়েছে। অত্যাচারের ফলে সঞ্জয়ের মানসিক ভারসাম্যের অভাব রয়েছে। এব্যাপারে জেলার পুলিশ সুপার শ্যাম সিং জানান, এমন খবর তার কাছে পৌঁছেছে। টুলটুলি ও শিব বর্মনকে জেরা করার জন্য থানায় আটক করা হয়েছে।
[বর্ষবরণের রাতে ফাঁকা ফ্ল্যাটে ‘সফিস্টিকেটেড’ মধুচক্র, সতর্ক পুলিশ]
পরিবারকে সঞ্জয় জানায় তাকে দিয়ে হোটেল মালিক প্রচন্ড কাজ করাত। ওই যুবককে শিকল দিয়ে বেধে রেখে চলত মারধর। ভয় দেখাত সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হত। শিকল খুলে তাকে কাজ করানো হত। সঞ্জয়ের শরীরে নির্যাতনের ছাপ স্পষ্ট। হাতে তাঁর কালসিটে পড়ে গিয়েছে। পুলিশ জানতে পেরেছে সঞ্জয়কে মাদকাসক্ত করার চেষ্টা করা হয়। এর জন্য মাদক জাতীয় কিছু খাইয়ে দেওয়া হয়। এই ব্যাপারে প্রয়োজনে গুজরাট পুলিশের সঙ্গে কথা বলবেন তদন্তকারীরা।
The post ফের মোদির রাজ্যে আক্রান্ত বাঙালি শ্রমিক, পালিয়ে এসে রক্ষা appeared first on Sangbad Pratidin.
