পরিবারের পাঁচজনকে এসআইআরের (Bengal SIR) শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। আজ, বুধবার তাঁদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে শুনানিতে যাওয়ার কথা ছিল। তার আগেই ঘটল মর্মান্তিক ঘটনা। মঙ্গলবার রাতে 'এসআইআর আতঙ্কে' মারা গেলেন বৃদ্ধ। মৃতের নাম সহর আলি মণ্ডল। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ার পূর্ব মাদারতলা গ্রামে। ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস-বিজেপি রাজনৈতিক তরজা। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
বাংলায় এসআইআর (SIR in West Bengal) শুরুর দিন থেকে সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ। একাধিক মানুষ আতঙ্কে মারাও যাচ্ছেন! শুনানি শুরু পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ মানুষ হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ। বিভিন্ন জায়গা থেকে আতঙ্কে মৃত্যুর একাধিক অভিযোগও সামনে আসছে। সেই তালিকায় এবার নাম জুড়ল হাড়োয়ার সহর আলি মণ্ডলের।
জানা গিয়েছে, ৬৭ বছর বয়সী বৃদ্ধ ও ছেলেদের-সহ আরও পাঁচজনকে এসআইআর শুনানিতে ডাকা হয়েছে। সেই নোটিস পাওয়ার পর থেকেই বৃদ্ধ আতঙ্কে ভুগছিলেন! ছেলেদের ভোটার লিস্টে নাম থাকবে তো? পরিবারকে কোনও সমস্যা পড়তে হবে না তো? সেসব প্রশ্ন তাঁকে ভাবাচ্ছিল। ছেলেদের কীভাবে বাঁচানো যায়? সেই বিষয়েও দুশ্চিন্তা করছিলেন! বেশ কয়েক দিন ধরেই তিনি আতঙ্কিত হয়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি। আজ, বুধবার ওই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। তার আগে মঙ্গলবার রাতে সহর আলি মণ্ডল অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। রাতেই তিনি মারা যান! এসআইআর আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের। অভিভাবকের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সদস্যরা।
ঘটনা নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোড়। হাড়োয়া স্থানীয় তৃণমূল নেতা পঞ্চায়েত সদস্য স্বপন মণ্ডল বলেন, "একের পর এক মানুষের মৃত্যু ঘটছে এই এসআইআর (SIR in West Bengal) আতঙ্কে। অবিলম্বে এসআইআর বন্ধ হওয়া উচিত। না হলে আমরা আরও বহু মানুষের মৃত্যু দেখতে পাব চোখের সামনে। এসআইআর নিয়ে বিজেপি সরকার নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে রাজনীতি শুরু করেছে।" যদিও এই অভিযোগকে আমল দিতে নারাজ বিজেপি।
