দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের হাতিশালা দক্ষিণপাড়া এলাকায় একটি বাঁশবাগান থেকে একাধিক বোমা উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার সকালের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পোলেরহাট থানার পুলিশ। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে কয়েকজন বাসিন্দা বাঁশবাগানের ভিতরে সন্দেহজনক কিছু বস্তু দেখতে পান। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল থাকলেও পরে আতঙ্ক ছড়ায়। বস্তুগুলির আকার ও অবস্থান দেখে বোমা বলে সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পোলেরহাট থানার পুলিশ এসে বেশ কয়েকটি তাজা বোমা উদ্ধার করে। বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করার জন্য বিশেষজ্ঞ দলকে খবর দেওয়া হয়েছে।
বোমাগুলি কতটা শক্তিশালী, কতদিন ধরে সেখানে রাখা হয়েছিল এবং কী উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। গোটা এলাকা ঘিরে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এলাকায় আর কোনও বিস্ফোরক মজুত রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। আইএসএফের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরাই এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এই বোমাগুলি মজুত করেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে পালটা দাবি করে, আইএসএফ কর্মীরাই পরিকল্পিতভাবে এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে বোমা মজুত করে রেখেছে। বিরোধী দলগুলি এলাকায় উত্তেজনা তৈরি করে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে টহলদারি বাড়িয়েছে পুলিশ। স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বোমা মজুত রাখার ঘটনায় কে কে জড়িত রয়েছেন তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হবে। স্থানীয়দের দাবি, দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
