ধীমান রায়, কাটোয়া: ভাতারের ভূমশোর গ্রামে রমজান মোল্লার খুনের ঘটনা যেন আরও একবার অতীতের স্মৃতি উসকে দিল। শনিবার সকালে বোমা বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে রমজান মোল্লার। এই খুনের ঘটনার পর ভূমশোরের অধিকাংশ বাড়ি পুরুষশূন্য, শুনশান। পুলিশি ধরপাকড়ের ভয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে সব। বহু পরিবারের মহিলারাও গ্রাম ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়ের বাড়িতে। গ্রামে বসেছে পুলিশ পিকেট। গ্রাম জুড়ে টহল দিচ্ছে পুলিশ। খুনের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৫ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তারও করেছে।
[বিজেপিকে ঠেকাতে দরকারে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মেলাব: গৌতম দেব]
শনিবার সকালে ভূমশোর গ্রামে পশ্চিমপাড়ায় দোকান থেকে রেশন তুলে সাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন রমজান মোল্লা। পথে বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় ওই তৃণমূল কর্মীর। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভূমশোর রাজনৈতিকভাবে উত্তেজনাপ্রবণ গ্রাম বলে পরিচিত। ভাতার গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন এই গ্রামে বাম আমলে উত্তেজনা লেগেই থাকত। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এখানে রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছিল একাধিক জন। প্রায় ১২ বছর আগে ভূমশোর গ্রামে সংঘর্ষের সময় বোমা ফেটে দু’জনের মৃত্যু হয়েছিল। তারমধ্যে একজন গ্রামেরই বাসিন্দা। অন্যজন তাঁরই আত্মীয় মঙ্গলকোটের ন’পাড়ার বাসিন্দা। বোমা বাঁধতে গিয়ে তা ফেটে তাদের মৃত্যু হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। তার পরেও ভূমশোরে একাধিকবার দুই রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। তার জেরে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে গ্রামছাড়া ছিলেন।তবে রমজানের মৃত্যুকে পরিকল্পনামাফিক খুন বলে দাবি করছে তাঁর পরিবার। জানা গিয়েছে, ভূমশোর গ্রাম ঢোকার মুখেই খাসপাড়া। প্রায় দু’শো পরিবারের বসবাস। খাসপাড়ার বাসিন্দা এক গৃহবধূ বলেন, “আমাদের পাড়া থেকে কয়েকজন ছেলেমেয়ে মসজিদপাড়ায় টিউশন পড়তে গিয়েছিল শনিবার সকালে। বেশ কয়েকজন সেখানে থলিতে বোমা ভরে ঘোরাঘুরি করছিল। আমাদের ছেলেদের ওরা বলেছিল, আজ ঝামেলা হবে। বাড়ি চলে যাও। তখনই আমরা আশঙ্কা করেছিলাম কিছু একটা অশান্তি হবে।”
[তৃণমূলের মিছিলে হামলায় জখম অন্তত ১২, অভিযোগে গ্রেপ্তার ৭ বিজেপি কর্মী]
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাতার পঞ্চায়েতের কর্তৃত্ব নিয়ে ভূমশোর গ্রামের একটা ভূমিকা বরাবরই রয়েছে। এই গ্রামটিকে তাই হাতে রাখার টার্গেট ছিল স্থানীয় নেতাদের। তারই জেরে রমজানের উপর হামলা চালানো হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। এদিকে এই খুনের ঘটনায় ভাতার পঞ্চায়েতের বিদায়ী প্রধান রঙ্গিনা বেগম মণ্ডলের স্বামী আবু তালেব মণ্ডল ওরফে বেবুলকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। হেফাজতে নেওয়া হয়েছে আরও দুই অভিযুক্ত খাইরুল আলম ও হুমায়ূন কবীরকে। তাদের জেরা করা হচ্ছে। বাকি অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ছবি : জয়ন্ত দাস
The post তৃণমূল কর্মী খুনের জেরে এখনও থমথমে ভাতার, গ্রেপ্তার ৩ appeared first on Sangbad Pratidin.
