Advertisement
ক্ষুধিত পাষাণ! লোহাগড়ে মৃত্যু কেতনের, হাড়হিম হত্যালীলার সাক্ষী রাজস্থানের এসব দুর্গ
ইতিহাসের রোমহর্ষক কাহিনি কি আপনাকে হাতছানি দেয়? তবে জায়গাগুলি চাক্ষুস করতে কাজের ব্যস্ততা দূরে সরিয়ে বেরিয়ে পড়ুন।
কেতনের মৃত্যুর সাক্ষী লোহাগড় দুর্গ। অভিযোগ, পাহাড়ের মাঝে ২ হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ থেকে গিরিখাতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় পুণের ব্যবসায়ীপুত্র কেতনকে। নাম জড়ায় বাগদত্তা সিয়া এবং তার প্রেমিকের। শুধু কেতন হত্যাই নয়, লোহাগড় দুর্গে নাকি অহরহ দেখা মেলে অশরীরীরও। তা সত্ত্বেও সেখানে ভিড় জমান বহু পর্যটক। এই লোহাগড় দুর্গ নিয়ে প্রচলিত কাহিনিও গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো।
শুধু লোহাগড়ই নয়। রাজস্থানে এমন বেশ কিছু দুর্গ রয়েছে যা ভয়ংকর হত্যালীলার সাক্ষী। তার মধ্যে অন্যতম চিতোরগড় দুর্গ, জয়সলমেঢ় দুর্গ। যেখানে ঘটেছে বহু রোমহর্ষক ঘটনা। যা পরবর্তীকালে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে।
এশিয়ার বৃহত্তম দুর্গগুলোর মধ্যে অন্যতম চিতোরগড়। প্রায় ৭০০ একর এলাকা জুড়ে রয়েছে এই দুর্গ। ২০১৩ সালে এটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। রাজপুতদের বীরত্ব, ত্যাগ ও জোহরের এক জ্বলন্ত প্রতীক। সপ্তম শতাব্দীতে মৌর্য শাসক চিত্রাঙ্গদ মোরি এই দুর্গটি নির্মাণ করেন। তাঁর নামানুসারেই হয় 'চিত্তোর'। পরবর্তীতে বাপ্পা রাওয়াল এটি মেওয়ারের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলেন।
এই দুর্গটি মূলত তিনটি ঘটনার সাক্ষী। ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি রানি পদ্মাবতী এবং রাজারতন সিং মেওয়ার আক্রমণ করেন। ১৫৩৫ খ্রিস্টাব্দে গুজরাটের সুলতান বাহাদুর শাহ দুর্গ আক্রমণ করেন। এরপর ১৫৬৭-৬৮ খ্রিস্টাব্দে মোগল সম্রাট আকবর দুর্গটি আক্রমণ করেন। দখলও করে নেন।
বীরের মতো লড়াইয়ের পরেও প্রতিটি যুদ্ধে পরাজয়ের শিকার হন রাজপুত সেনারা। তখন দুর্গের রানি এবং হাজার হাজার রাজপুত নারী নিজের সম্মানরক্ষায় আগুন ঝাঁপ দিতেন। পালন করতেন 'জোহর' ব্রত। রানি পদ্মাবতী এবং রানি কর্মবতীর জোহর কাহিনি আজও সকলের অবিস্মরণীয়।
Published By: Sayani SenPosted: 09:38 PM Jul 09, 2026Updated: 09:38 PM Jul 09, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
