shono
Advertisement
Birbhum

অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষীর ফ্ল্যাটে আরব-পাকিস্তানের মুদ্রা! আন্তর্জাতিক যোগ? তদন্তে পুলিশ

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকে জেরা করে একাধিক অসঙ্গতি উঠে এসেছে।
Published By: Kousik SinhaPosted: 05:51 PM Aug 16, 2026Updated: 10:47 PM Aug 16, 2026

রাতভর তল্লাশিতে ধৃত সায়গল হোসেনের ফ্ল্যাটে মিলল আরব এবং পাকিস্তানের মুদ্রা। টুলু মণ্ডলের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন এই দেহরক্ষীর বাড়িতে শুক্রবার গভীর রাত থেকে শুরু হয় তল্লাশি। যা রবিবার প্রায় ভোররাত পর্যন্ত চলে। দীর্ঘ এই তল্লাশিতে সায়গলের বোলপুরের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় নগদ ১২ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা, আনুমানিক ৮০০ গ্রাম সোনা-সহ শতাধিক জমির দলিল। এখানেই শেষ নয়, তল্লাশিতে উদ্ধার হয় প্রচুর পরিমাণ আরব এবং পাকিস্তানের মুদ্রা। কিন্তু কীভাবে সেগুলি সায়গলের ফ্ল্যাটে এল? সেটাই এবার খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এমনকী দুই দেশের বিদেশি মুদ্রা উদ্ধারের পিছনে আন্তর্জাতিক কোনও যোগ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সায়গলকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও শুরু করেছেন পুলিশ আধিকারিকরা।

Advertisement

বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদীত রাজ বন্দেশ জানান, "তল্লাশিতে নগদ টাকা, সোনা এবং আরব ও পাকিস্তানের মুদ্রা পাওয়া গিয়েছে। ওই সম্পত্তি ও মুদ্রার বিষয়ে সদুত্তর না পাওয়ায় সায়গলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"

দীর্ঘ তল্লাশি শেষে গভীর রাতে সায়গল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে তোলা হলে তাঁকে সাতদিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন জানায় পুলিশ। আদালত তা মঞ্জুর করে। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানান, সায়গলের বাড়ি থেকে ১৫০ টি জমির নথি উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে প্রচুর নগদ এবং সোনা। শুধু তাই নয়, আরব এবং পাকিস্তানের মুদ্রাও উদ্ধার হয়েছে। তবে তার পরিমাণ কত, সেই বিষয়টি স্পষ্ট করেননি সরকারি আইনজীবী। তাঁর কথায়, ''পুরো বিষয়টি এখন তদন্তের আওতায়।'' পাশাপাশি ধৃত সায়গলের সঙ্গে টুলু মণ্ডলের যে যোগসাজশ রয়েছে, তাও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন বিভাস চট্টোপাধ্যায়।

বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদীত রাজ বন্দেশ জানান, "তল্লাশিতে নগদ টাকা, সোনা এবং আরব ও পাকিস্তানের মুদ্রা পাওয়া গিয়েছে। ওই সম্পত্তি ও মুদ্রার বিষয়ে সদুত্তর না পাওয়ায় সায়গলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।" সায়গল হোসেন অবশ্য আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পালটা দাবি জানিয়ে সায়গল বলেন, "স্ত্রী হজে আরব যাওয়ার সময় মুদ্রা পরিবর্তন করেছিলেন, সেখান থেকেই একটি পাকিস্তানি কয়েন চলে এসে থাকতে পারে। আমার বিরুদ্ধে আগেই ইডি-সিবিআই তদন্ত করেছে। চার মাস ধরে জামিনে মুক্ত রয়েছি। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। এর পিছনে বড় কোনও মাথা থাকতে পারে। আমি এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত নই।’’ কিন্তু বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি টুলু মণ্ডল মামলার তদন্তে সায়গলের সঙ্গে এই যোগসূত্র আসলে কতদূর বিস্তৃত এবং উদ্ধার হওয়া বিপুল সম্পত্তি ও বিদেশি মুদ্রার উৎসই বা কী। এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement