নন্দন দত্ত: অবশেষে বীরভূমের সাগর ঘোষ হত্যা মামলায় রায়দান করল আদালত। দীর্ঘিদিন ধরে চলা মামলার শেষে বৃহস্পতিবার দুই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে সিউড়ি জেলা আদালত। তবে উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস পায় অন্য ছয় অভিযুক্ত। হত্যা মামলা দোষী সাব্যস্তদের নাম ভাগীরথ ঘোষ ও সুব্রত রায়। ৪৪৮, ৩০৩/৩৪ এবং ২৭ নম্বর ধারায় অস্ত্র আইনে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এদের। গত ২৭ মার্চ ওই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছিল। সে দিনই জানানো হয়েছিল রায় ঘোষণার দিন। এই মামলায় বেকসুর খালাস হয়েছেন শেখ মুস্তাফা, জগন্নাথ দাস, প্রিয় মুখোপাধ্যায়, জলধর দাস, শেখ ইউনিস, আসগর আলি।
[ইস্তাহারে ভুয়ো ছবি দেখিয়ে বাজার গরম করতে চাইছে বিজেপি, কটাক্ষ পার্থর]
২০১৩ সালের ২১ জুলাই পাড়ুই থানার বাঁধনগর গ্রামে নিজের বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হন সাগর ঘোষ। সেই ঘটনায় দুটি এফআইআর করা হয়। পাড়ুইয়ের বাঁধ নবগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার নেয় বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। ২০১৪ সালের ১৬ জুলাই আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। তাতে নাম ছিল তৃণমূলের অঞ্চল কমিটির সম্পাদক শেখ মুস্তফা, তৃণমূলের কসবা অঞ্চল সভাপতি শেখ ইউনুস, জলধর দাস, জগন্নাথ দাস, প্রিয় মুখোপাধ্যায়, ভগীরথ ঘোষ, সুব্রত রায় এবং শেখ আসগরের। শেখ আসগর ছাড়া বাকি সাত জনই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
তদন্তের শেষে সিউড়ি জেলা আদালতে ২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি চার্জ গঠিত হয়। ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই সিউড়ির তৎকালীন জেলা জজ গৌতম সেনগুপ্তের এজলাসে মামলার শুনানি শুরু হয়। তবে প্রথম থেকেই ওই চার্জশিট নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন সাগর ঘোষের পরিবারের সদস্যরা। তাঁর স্ত্রী সরস্বতী ঘোষ, ছেলে হৃদয় ঘোষ, পুত্রবধূ শিবানী ঘোষ মামলার সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হননি। তদন্তে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে সিবিআই তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় সাগর ঘোষের পরিবার। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালতের নির্দেশে নিম্ন আদালতে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। পরে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেন নিহতের ছেলে হৃদয় ঘোষ। সুপ্রিম কোর্টে মামলা প্রত্যাহার করেন তিনি। নিম্ন আদালতে ফের শুরু হয় সেই মামলা। মামলায় ৪৭জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
[১২ লক্ষ টাকা তোলা চাওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূলের যুবনেতা]
ছবি: বাসুদেব ঘোষ।
The post পাড়ুইয়ের সাগর ঘোষ হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা, দোষী সাব্যস্ত দুই appeared first on Sangbad Pratidin.
