বারুইপুরে ধর্ষণ-খুনের ঘটনা (Baruipur Incident) নিয়ে তোলপাড় রাজ্য। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরপরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এমনকী তিনদিনের মধ্যে পুলিশের এনকাউন্টার এক অভিযুক্তের মৃত্যুও হয়েছে। তা নিয়ে তুঙ্গে আলোচনা। এসবের মাঝেই ফের শিরোনামে উঠে এল অভিযুক্ত সন্দেহে পিটিয়ে মারা 'নির্দোষ' ইন্দ্রজিত মণ্ডল! ঘটনাস্থলে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, এলাকার অটোচালক ইন্দ্রজিৎ যে নির্দোষ ছিলেন, মৌলবাদীদের রোষের শিকার হয়ে অকালে জীবন হারিয়েছেন। বিচারের আশ্বাসও দেন। এবার ছেলের নির্মম মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন ইন্দ্রজিতের বাবা অজিত মণ্ডল। তিনি জানালেন, ওইদিন বাড়িতে চড়াও হয়ে ২০০ থেকে ২৫০ জন ছেলেকে মারধর করেছিল। পরে ডেকে নিয়ে গিয়ে তারা বলেছিল, ছেলেকে ফিরিয়ে দিয়ে যাবে। কিন্তু পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। আইনের উপর আস্থা রেখে অজিতবাবু জানাচ্ছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তাঁরা আশ্বস্ত যে অন্যায়কারীরা শাস্তি পাবে।
রবিবার বারুইপুরের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার কয়েকঘণ্টার মধ্যে জানা যায়, গণপিটুনিতে এক অভিযুক্তেরও মৃত্যু হয়েছে। তার দেহ রাস্তায় পড়ে ছিল। আসল অভিযুক্ত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে সিট। মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, যাকে অভিযুক্ত সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে মারা হয়েছিল, সেই ইন্দ্রজিত মণ্ডল 'নির্দোষ'। যারা মেরেছে, তাদেরও বিচার হবে। ওইদিন বারুইপুর এসপি অফিসে ইন্দ্রজিতের বাবাকেও ডেকে পাঠিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত হন ইন্দ্রজিতের বাবা অজিত মণ্ডল।
অজিতবাবুর কথায়, ‘‘ওরা বলেছিল, ছেলেকে কথা বলতে নিয়ে যাচ্ছে। আবার ফিরিয়ে দেবে। আমি ওদের বলেছিলাম, ছেলে অন্যায় করলে আমি নিজে পুলিশের হাতে তুলে দেব। কেউ কেউ আমার কথায় সমর্থন করেছিল। কিন্তু বাকিরা তাতে রাজি ছিল না। ওরা শোনেনি। ছেলেকে ফাঁসিয়েছিল আনন্দ। ওরা তো একই পাড়ায় থাকে, সেই হিসেবে চেনে একে অন্যকে। ওর বলা কথার ভিত্তিতেই আমার ছেলেকে মেরে ফেলা হল। আইন কেন নিজেদের হাতে তুলে নেবে? সরকার নেই নাকি?''
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি ওইদিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান। তাঁর কথায়, ‘‘ওইদিন সকাল ৮টা বা ৯টা নাগাদ বাড়ির সামনে জড়ো হয় প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন। ইন্দ্রজিতের খোঁজ করে। আমি জানতে চাই, কী হয়েছে? ওরা ছেলেকে ডেকে দিতে বলে। পরে জানতে পারি, এগারোর বছরের একটা মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ছেলে ঘর থেকে বাইরে আসতেই ওরা মারধর শুরু করে। সামনে দোকানের জিনিসপত্রও ভাঙচুর করে। আমি ছেলেকে বাঁচাতে যাই, আমার কপালে, ঠোঁটে আঘাত লাগে। পরে জানতে পারি যে এগারোর বছরের একটা মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। তাতে নাকি আমার ছেলে জড়িত।''
অজিতবাবুর কথায়, ‘‘ওরা বলেছিল, ছেলেকে কথা বলতে নিয়ে যাচ্ছে। আবার ফিরিয়ে দেবে। আমি ওদের বলেছিলাম, ছেলে অন্যায় করলে আমি নিজে পুলিশের হাতে তুলে দেব। কেউ কেউ আমার কথায় সমর্থন করেছিল। কিন্তু বাকিরা তাতে রাজি ছিল না। ওরা শোনেনি। ছেলেকে ফাঁসিয়েছিল আনন্দ। ওরা তো একই পাড়ায় থাকে, সেই হিসেবে চেনে একে অন্যকে। ওর বলা কথার ভিত্তিতেই আমার ছেলেকে মেরে ফেলা হল। আইন কেন নিজেদের হাতে তুলে নেবে? সরকার নেই নাকি?'' তিনি আরও জানান, ছেলের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনায় বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে কথা বলে ভালো লেগেছে। আস্থা রাখছেন বিচারব্যবস্থার উপর।
