দীর্ঘ জল্পনার অবসান। অবশেষে রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে (Rejinagar By Election) প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপি। গেরুয়া শিবির ভরসা রাখল দলের পরীক্ষিত সংগঠক, রাজ্য সম্পাদক শাখারভ সরকারের ওপর। মঙ্গলবার বেলা ১১টা নাগাদ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর দুই কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। প্রত্যাশিতভাবেই নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হয়েছে হাসিরানি রথকে। যিনি নিহত চন্দ্রনাথ রথের মা। হাসিরানিকে প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা নিঃসন্দেহে বড় চমক বিজেপির। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে শাখারভ সরকার বিজেপির পরিচিত মুখ। বাবার হাত ধরেই তাঁর রাজনীতিতে আসা। যুক্ত হন বিজেপির সঙ্গে। রাজ্য সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার আগে দীর্ঘদিন তিনি বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে সংগঠন সামলেছেন। জেলায় দলের ভিত মজবুত করতে শাঁখারভ সরকারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এবার দল তাঁকেই হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে যাওয়া রেজিনগর আসন ছিনিয়ে আনার গুরুদায়িত্ব দিল।
শাখারভের কথায়, রেজিনগরে যে উপনির্বাচন হচ্ছে, তা ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক নির্বাচন নয়। মানুষ এখানে উন্নয়নের জন্য ভোট দেবেন। ওই কেন্দ্রে শুধু ‘আমি’ প্রার্থী নই, সেখানকার প্রতিটি কার্যকর্তাই বিজেপির প্রার্থী।
প্রসঙ্গত, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে চমক দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। তিনি নিজের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বাঁশি চিহ্নে নওদা এবং রেজিনগর দুটি আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে নিয়ম মেনে তিনি রেজিনগর আসন থেকে পদত্যাগ করেন। সেই কারণেই আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর কেন্দ্রে উপনির্বাচন হতে চলেছে। এই উপনির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে মুর্শিদাবাদে। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসের দুই যুযুধান শিবির, আম জনতা উন্নয়ন পার্টি, বামফ্রন্টের শরিক আরএসপি এবং সিপিএম আগেই তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছে। সবশেষে মঙ্গলবার প্রার্থী দিল বিজেপিও। দলীয় সূত্রে খবর, বুধবারই মনোনয়ন পত্র জমা দেবেন শাখারভ সরকার।
প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর থেকেই শুভেচ্ছার বন্যায় ভাসছেন শাখারভ। এদিন তিনি বলেন, “বাবার হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছিলাম। যুক্ত হয়েছিলাম বিজেপির সঙ্গে। প্রার্থী হওয়ার জন্য আমি কখনও কারও কাছে দরবার করিনি। দলকে জানিয়েছিলাম, আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব।'' শাখারভের কথায়, রেজিনগরে যে উপনির্বাচন হচ্ছে, তা ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক নির্বাচন নয়। মানুষ এখানে উন্নয়নের জন্য ভোট দেবেন। ওই কেন্দ্রে শুধু ‘আমি’ প্রার্থী নই, সেখানকার প্রতিটি কার্যকর্তাই বিজেপির প্রার্থী। তিনি আরও বলেন, “রেজিনগরের মানুষের ভালো স্কুল, কলেজ দরকার। ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষার জন্য বাইরে যেতে হয়। পাশাপাশি মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য ভাগীরথী নদীর ওপর একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতিও প্রয়োজন। এই সমস্ত বিষয়ই আমার নির্বাচনী প্রচারের মূল ইস্যু হবে। দলের কার্যকর্তারা ইতিমধ্যেই প্রচারে নেমে পড়েছেন।''
এদিকে শাখারভ সরকারকে প্রার্থী করায় উচ্ছ্বসিত জেলা বিজেপি। শুভেচ্ছা জানিয়ে বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজন বলেন, “শাঁখারভদা দীর্ঘদিন জেলা সভাপতি হিসেবে সংগঠনকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁকে দল প্রার্থী করায় আমরা সকল কর্মী-সমর্থক খুশি। রেজিনগরে বিজেপি অবশ্যই জিতবে। তাঁকে জেতানোর জন্য আজ থেকেই সমস্ত কর্মীরা জোরকদমে প্রচার শুরু করে দিয়েছি।” বলে রাখা প্রয়োজন, বিধানসভা ভোটের সময় একদিকে যখন বাবরি মসজিদ তৈরি ঘোষণা করেন হুমায়ুন, সেই সময় পালটা শাঁখারভ সরকার তাঁর প্রতিবাদে বহরমপুরে রাম মন্দিরের ভূমিপুজো করে কাজ শুরু করেন।
