পরিবর্তন রথযাত্রায় লোক হচ্ছে না। হতাশা থেকে দু'দিন আগে পশ্চিম বর্ধমানের বারাবনিতে অশান্তি ছড়ায় বিজেপি! তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা, সংখ্যালঘুদের মারধর এবং এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ। এদিকে, শনিবার পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম, মঙ্গলকোটেও পরিবর্তন যাত্রায় লোক হল না। মঙ্গলকোটের কাশেমনগর ফুটবল মাঠে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ একগুচ্ছ বিজেপি নেতাকে এনেছিল। কিন্তু সেই মাঠও ভরাতে পারেনি বিজেপি। লোক না হওয়ায় প্রায় তিনঘণ্টা দেরিতে সভা শুরু হয়।
এদিনের সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী, সৌমিত্র খাঁয়েরা বালিচুরি, দুর্নীতি-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিঁধেছেন তৃণমূলকে। গত বৃহস্পতিবার বারাবনি বিধানসভায় বিজেপির পরিবর্তন রথযাত্রা ঢোকার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। গৌরান্ডি হাটতলা এলাকায় বিজেপি নেতা অরিজিৎ রায়ের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র বিজেপি কর্মী রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। তাঁদেরকে তৃণমূল বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। তৃণমূল কর্মীদের লক্ষ্য করে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়, যার ফলে বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মী গুরুতর আহত হন। এমনকী স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপরও হামলার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। এফআইআর-এর ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে।
শুক্রবার রাতে নুনি গ্রামসহ পানুরিয়া ও গৌরান্ডি এলাকার বিভিন্ন জায়গায় অভিযুক্তদের ধরতে তল্লাশি চালায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। অরিজিৎ রায়-সহ অভিযুক্ত বিজেপি কর্মীরা বর্তমানে পলাতক। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং দোষীদের শাস্তি দিতে কোনও আপস করা হবে না। বারাবনি ব্লক তৃণমূল সভাপতি অসিত সিং বলেন, "বিজেপি বাইরে থেকে লোক এনে বারাবনির শান্ত পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। ওরা গুন্ডার মতো আচরণ করেছে, সাধারণ মানুষের মাথা ফাটিয়েছে। পুলিশ তার কাজ করছে, এখানে রাজনীতির কোনও যোগ নেই।’’ বিজেপি এই আইনি পদক্ষেপকে 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা' বলে দাবি করেছে। এদিন মঙ্গকোটের সভা থেকে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, ‘‘একটা বালিঘাট বৈধ চলে। আর ৫০টা বেআইনি বালিঘাট অবৈধভাবে চালানোর হয়। আর টিনভর্তি টাকা দিয়ে আসা হয় কালীঘাটে।’’
মঙ্গলকোটের বেআইনি বালির কারবারের অভিযোগ তুলে তিনি স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী থেকে অনুব্রত মণ্ডলকে নিশানা করেন। স্থানীয় এক অঞ্চল তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধেও তিনি সরব হন। বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার রথ এদিন প্রথমে আসে আউশগ্রামে। আউশগ্রামের ছোড়ায় সভা হয় সেখানে ছিলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। ছোড়া থেকে কাশেমনগরের সভাতেও আসেন সৌমিত্র। এদিনের সভায় কাটোয়া, ভাতার, বর্ধমান, কালনা থেকেও লোক এনে মাঠ ভরাতে পারেনি বিজেপি। অভিযোগ, তিন ঘণ্টা পরে সভা শুরু করেও ভরেনি সভাস্থল।
