বিধানসভা নির্বাচনের আগেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার বিজেপি (BJP)। দলের জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইটি সেলের সহ ইনচার্জ। উত্তরপাড়ায় নির্বাচনের আগেই চাপে বিজেপি। জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগে দলেরই উত্তরপাড়া মাখলা মন্ডল সভাপতিকে মারধর এবং খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল দলেরই শ্রীরামপুর সংগঠনিক জেলা সভাপতি সুমন ঘোষের অনুগামীদের বিরুদ্ধে। এবার জেলা সভাপতি সুমন ঘোষের বিরুদ্ধে সরব বিজেপির আইটি সেলের সহ ইনচার্জ রাজকুমার মন্ডল ।
তাঁর অভিযোগ, সুমন ঘোষ দলের শ্রীরামপুর সংগঠনিক জেলার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন মণ্ডল এলাকায় তার নিজের অনুগামীদের দিয়ে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের মারধর এবং হেনস্থা করছেন। উত্তরপাড়া মাখলা মন্ডল-সহ শ্রীরামপুর জেডপি ২-এর সভাপতিকেও মারধর করা হয়। প্রশাসনের কাছে যাতে অভিযোগ না জানানো হয় তার জন্য তার অনুগামীরা দলের একনিষ্ঠ কর্মীদের বিভিন্নভাবে হুমকিও দেন।
তাঁর আরও অভিযোগ ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি পয়সার বিনিময় অনর্ঘাত ঘটিয়েছিলেন। সেই সময় বিভিন্ন অর্থনৈতিক দুর্নীতিতে যুক্ত ছিলেন তিনি এবং দলের একাধিক মহিলাকর্মীর সঙ্গে অশ্লীল ছবি ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। এরপরেই তাঁকে সভাপতি পদ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সরিয়ে দেয় দল। কিন্তু আবারও তিনি সভাপতি পদে ফিরে আসেন ২০২৫ সালে। তারপর থেকে তিনি নিজের অনুগামীদের দিয়ে দলের একনিষ্ঠ কর্মীদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা করছেন। এমনকি দলের কর্মীদের নামে মিথ্যে মামলা করতেও পিছু পা হচ্ছে না তার অনুগামীরা। এইভাবে যদি দল চলতে থাকে তাহলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে শাসক দলের সামনে খড়কুটোর মত ভেসে যাবে বিজেপি এমনটাই আশঙ্কা তাঁর।
এই বিষয় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শুভদীপ মুখার্জি বলেন, "বিজেপি উপর থেকে নিচ পর্যন্ত গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার। শুভেন্দু, সুকান্ত, দিলীপ,শমীক বিভিন্ন গোষ্ঠীতে বিভক্ত বিজেপি। উত্তরপাড়া-সহ একাধিক জায়গায় নিজেদের যে মধ্যে গন্ডগোল মারধোরের ঘটনা ঘটছে তা এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রকাশ্য রূপ।" তিনি আরও বলেন, বাংলার মানুষকে এসআইআর এবং বাংলাকে অর্থনৈতিকভাবে অবরুদ্ধ করে রেখে যেভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে মানুষ কড়ায়-গণ্ডায় তার হিসেব নেবে। কেন্দ্রের জমিদারদের আবারও খালি হাতে ফিরে যেতে হবে দিল্লিতে।" বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, "নরেন্দ্র মোদি অমিত শাহরা যেন মনে রাখেন চিরকাল কেউ ক্ষমতায় থাকবে না। বাংলার সরকার-সহ বিরোধী রাজ্য সরকারগুলোকে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে যেভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে তার প্রতিফলন অবশ্যই পড়বে ২০২৯ সালের নির্বাচনে। তারা যেন মনে রাখেন শেষের সেদিন খুবই ভয়ঙ্কর হবে।"
