কেন্দ্রীয় বাজেটেও বাংলাকে কার্যত বঞ্চনা করা হয়েছে। বাংলার জন্য বিশেষ কোনও ঘোষণা না থাকায় কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্য বিজেপি (Bengal BJP)। ভোট প্রচারে গিয়ে বাজেটে বাংলার বঞ্চনা নিয়ে আমজনতার প্রশ্নের মুখে পড়লে তার জবাব কী হবে রাজ্যনেতাদের কাছে তা জানতে চাইছে বিজেপির নিচুতলার নেতা-কর্মীরা।
আশা ছিল, গতবার বিহার ভোটের আগের বাজেটে যেমন সেখানে ৬০ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে দিয়েছিল কেন্দ্র, এবার হয়তো সেই পথে হাঁটবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। কারণ বঙ্গের দরজায় কড়া নাড়ছে বিধানসভার ভোট। কিন্তু ৬০ হাজার কোটি তো দূর, সামান্য বরাদ্দ নেই কোনও খাতে সুনির্দিষ্টভাবে।
রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি বঙ্গ বিজেপির অন্দরেও প্রশ্ন, তাহলে কি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর টিম ধরেই নিয়েছে ভোটে বঙ্গ-জয় অসম্ভব! নাহলে কেন বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের মতো অস্ত্র হাতে পেয়েও তা কাজে লাগাল না বিজেপি। বাংলাকে বঞ্চনার বাজেট নিয়ে দলের মধ্যে হতাশা কাটাতে ও পালটা প্রচার কী হবে তা ঠিক করতে চলতি সপ্তাহেই রাজ্য নেতৃত্ব আলোচনায় বসবেন বলে খবর। সারা বছর মানুষের পাশে থেকে কাজ করে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। সুতরাং বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের প্রতিই মানুষ তাদের সমর্থন ও আস্থা রাখবে বলে একশো শতাংশ নিশ্চিত ঘাসফুল শিবির।
উলটোদিকে, বিজেপির কাছে লড়াইয়ের জ্বলন্ত কোনও ইস্যু নেই। সেই দুর্নীতি থেকে অনুপ্রবেশ ইস্যু ও মেরুকরণের রাজনীতিতে শান দিতে হচ্ছে গেরুয়া শিবিরকে। বিজেপির এক জেলানেতার কথায়, এই পরিস্থিতিতে আমরা জেলায়-জেলায়, ব্লকে-ব্লকে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার কথা কী বলব? বাংলা কী পেল, এটা নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্নের মুখে পড়তে হবেই। সূত্রের খবর, গ্রামবাংলায় নিচুতলার বিজেপি নেতাদের অনেকের বক্তব্য, বাজেট নিয়ে বাংলার মানুষ হতাশ। তাই বাড়ি বাড়ি প্রচারে গিয়ে মানুষের প্রশ্নের জবাব দিতে পারব না আমরা।
সূত্রের খবর, নিচুতলায় বাড়ি বাড়ি প্রচারে বাজেটের বিষয় উঠলেই তা আপাতত এড়িয়ে যাওয়ার পথেই হাঁটতে চায় বিজেপি। কারণ, বিজেপি নেতারা এতদিন প্রচারে বাংলার জন্য যা বলে বেরিয়েছিলেন তার প্রতিফলন বাজেটে দেখা যায়নি। উত্তরবঙ্গে এইমস থেকে বাংলায় শিল্পের স্বপ্ন ফেরি করা হলেও সেসব নেই বাজেটে। আবার কেন্দ্রীয় বাজেট মন জিততে পারেনি উত্তরবঙ্গের চা বলয়ের শ্রমিকদেরও।
