দলের সদ্য নির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে সভার মাঝে খোদ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আউশগ্রামের বিধায়ক কলিতা মাজির নাম উল্লেখ করেছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, "বাংলার সমস্ত হতদরিদ্র পরিবারের মা-বোনেদের কাছে কলিতা মাজি আশার বিন্দু। কারণ কলিতা মাজি প্রমাণ করেছেন, গরিব পরিবারের প্রতিনিধিরাও বিধানসভায় বসতে পারেন।" স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দলের বিধায়কদের উদ্দেশে বলেছিলেন, "হাততালি দিয়ে সকলে কলিতা মাজিকে অভিবাদন জানান।" করতালিতে ফেটে পড়েছিল সভাকক্ষ।
গুসকরা শহরের বাসিন্দা গৃহবধূ কলিতা মাজি পরিচারিকার কাজ করতেন। নুন আনতে পান্তা ফুরনোর সংসার। স্বামী পেশায় কলমিস্ত্রি। এক ছেলে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। সংসারের অভাবের কারণেই তাঁকে এযাবৎ পরিচারিকার কাজ করতে হয়েছে। ২০২১ সালে তাঁকে প্রথমবার আউশগ্রামের প্রার্থী করে বিজেপি। প্রথম লড়াইয়ে পরাজিত হলেও ফের এবারে তাঁকেই দল টিকিট দেয়। আর এবারের নির্বাচনে ১২ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন কলিতা।
বাড়িতে আসা দলীয় নেতা-কর্মীদের মিষ্টি খাওয়াচ্ছেন কলিতা। নিজস্ব চিত্র
শনিবার ব্রিগেড থেকে অনেক রাতেই বাড়ি ফেরেন আউশগ্রামের বিধায়ক কলিতা মাজি। কিন্তু রাত করে বাড়ি ফিরেও বিশ্রাম নেওয়ার অবকাশ পাননি। রবিবার খুব সকালেই ঘুম থেকে উঠে বাড়ির দৈনন্দিন কাজ সেরেছেন। উঠোনে ঝাঁট দেওয়া। ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা, বাসন মাজা থেকে শুরু করে বাড়ির কাপড় কাচার কাজ নিজের হাতেই সামলেছেন। এরপর নিজেই সকাল সকাল রান্নার কাজও শুরু করেন। দেখা যায়, ততক্ষণে বাড়িতে দলের কয়েকজন কার্যকর্তা ও কর্মী হাজির। রান্নার ফাঁকেই তাঁদের সঙ্গে সাংগঠনিক আলোচনা সারতে দেখা যায়। স্বামী ও ছেলেকে নিজের হাতে খেতেও দেন। এরপর তিনি বেরিয়ে যান চিকিৎসকের কাছে।
কলিতাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা। নিজস্ব চিত্র
কলিতার সঙ্গে থাকা প্রদীপ তেওয়ারি বলেন, "দিন পাঁচেক ধরে কলিতাদির একটি চোখে সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর্যন্ত সময় পাননি। গুসকরা শহরের এক চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে দেখানো হয়েছে। ওষুধ দিয়েছেন। চশমাও নিতে হয়েছে।" রবিবার এমনিতেই অনেকে কলিতা মাজির বাড়িতে এসেছেন শুভেচ্ছা জানানোর জন্য। তার উপর আউশগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চল এলাকা থেকে দলীয় কর্মী ও কার্যকর্তাদের ফোন আসছে। বিকেলেও দলের কর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন আলোচনায় বসেন কলিতাদেবী।
বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা কমিটির সদস্য তথা কলিতাদেবীর নির্বাচনী এজেন্ট চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "কলিতা অত্যন্ত পরিশ্রমী মহিলা। ভীষণ ধৈর্যশীল। দল একজন যোগ্যকেই প্রার্থী হিসাবে মনোনীত করেছিল। দলের কর্মীরা বিধায়কের পাশে সবসময়ই আছে।" কলিতাদেবী বলেন, "দল, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে যে মর্যাদা আমি পেয়েছি, আমি আমার সমস্ত প্রচেষ্টা দিয়ে দলের নির্দেশ পালন করব।"
