এ যেন 'মুখে ভাত' অনুষ্ঠান। বিজেপি (BJP) কর্মীকে মুখে ভাত তুলে খাইয়ে দিচ্ছেন এলাকারই অন্যান্য কর্মী-স্থানীয় নেতৃত্ব। দলা পাকানো কান্না কার্যত ঢোক গিলে ওই ভাত খাচ্ছেন তিনি। চোখের কোনায় জল চিকচিক করছে ওই বিজেপি কর্মীর। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্যদের অনেকের চোখও সেই মুহূর্ত জলে ভরে গিয়েছিল। হবে নাই বা কেন? ১০ বছর পর ভাত খেলেন তিনি! এর পিছনেও রয়েছে তৃণমূল আমলে 'অত্যাচারে'র ঘটনা। ১০ বছর আগে তৃণমূলের লোকজন বাড়িতে ঢুকে মারধর করেছিল! হাঁড়িতে রাখা ভাত ফেলেও দিয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার পর থেকেই বিজেপি কর্মী সুভাষ বর্মন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় না এলে তিনি ভাত খাবেন না!
রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে বিজেপি প্রথমবারের জন্য বাংলায় সরকার গঠন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে পরিবর্তনের পর বিভিন্ন জায়গায় এমন প্রতিজ্ঞাভঙ্গের খবর সামনে আসছে। কেউ চুল কাটছেন। কেউ দীর্ঘ ২৮ বছর পর পায়ে জুতো পরেছেন। এবার এক দশক পরে ভাত খাওয়ার ঘটনা সামনে এল। জানা গিয়েছে, বিজেপি কর্মী সুভাষ বর্মনের বাড়ি কোচবিহারের শীতলকুচিতে।
দলের কর্মীদের সঙ্গে সুভাষ বর্মন। নিজস্ব চিত্র
শীতলকুচি ব্লকের ভাঐরথানা গ্রাম পঞ্চায়েতের আওয়ালি কুড়া বুথে আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন গ্রামবাসীরা। ১০ বছর পর রীতিমতো অনুষ্ঠান করে ফের ভাত খেলেন তিনি। কিন্তু কী কারণ? স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালের কোচবিহার লোকসভা উপনির্বাচনে বিজেপির পোলিং এজেন্ট ছিলেন সুভাষ। দীর্ঘ সময় ধরেই তিনি বিজেপি কর্মী। সেই নির্বাচনের রাতেই তৃণমূলের লোকজন বাড়িতে হামলা চালায়। ভাঙচুর, লুটপাটের পাশাপাশি রান্না করা ভাতের হাঁড়িও ফেলে দেওয়া হয়েছিল! মেঝেয় ছড়িয়ে থাকা ভাত দেখে পণ করেছিলেন, যতদিন সরকার বদলে বিজেপি ক্ষমতায় না আসবে, ততদিন তিনি ভাত খাবেন না।
মাঝে একাধিক ভোট গিয়েছে। কোনও ভোটেই বিজেপি জেতেনি। এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের চাপ, অত্যাচার ক্রমেই বেড়েছে বলে অভিযোগ। শেষপর্যন্ত এবার বিধানসভা নির্বাচনে পালাবদল। ২০৭টি আসনে জিতে বিজেপি বাংলায় সরকার গড়েছে। রবিবার সেই প্রতিজ্ঞা ভাঙলেন তিনি। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে আয়োজন করা হয় বিশেষ অনুষ্ঠানের। এখনও তাঁর বাড়ির একাংশ ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সযত্নে তুলে রাখা হয়েছে সেই সময়ের ভাঙা হাঁড়ি-কড়াইও। সুভাষের কথায়, "সেদিনের অপমান ভুলতে পারিনি। এবার স্বপ্নপূরণ হয়েছে। তাই সবার সঙ্গে আবার ভাত খেলাম।"
