সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: ‘শহিদ স্মরনসভা’-কে লোকসভা ভোটের প্রচারের মঞ্চ হিসাবে ব্যবহার করলেন বিজেপির সবর্ভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া শহরের উপকন্ঠে শিমুলিয়া ফুটবল ময়দানে ওই জনসভা থেকে একেবারে লোকসভা ভোটের প্রচার করে এই বাংলা থেকে তৃণমূলকে উপড়ে ফেলার ডাক দেন তিনি। তাঁর প্রায় তিরিশ মিনিটের বক্তৃতায় শুধুই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, বিবেকানন্দের বাংলায়, বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্র, জগদীশ চন্দ্র বসু, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাংলায় যেখানে কবিগুরু রবিঠাকুর শান্তিনিকেতন বানিয়েছেন সেখান আজ রবীন্দ্র সংগীতে নাচতে দেখা যায় না। বোমার আওয়াজে লুপ্ত হয়ে গিয়েছে রবীন্দ্র সংগীত। কলকারখানা সব বন্ধ। বোমা বানানোর কারখানা তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমি তারা মা-র কাছে প্রার্থনা করেছি আমাদের নেতা-কর্মীদের এত শক্তি দিন যাতে হিংসা করা মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়ের সরকারকে উপড়ে ফেলতে পারি।” এই জনসভার মঞ্চে পুরুলিয়া থেকে তিনি চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলেন, কর্মীদের রক্ত বিফলে যাবে না। রক্ত নিয়ে শপথ করছি এই সরকার থাকবে না। এদিন শিমুলিয়ার মাঠে ভিড় উপচে পড়েছিল। সেই ঠাসা ভিড়ে দাঁড়িয়ে অমিত শাহ বলেন, “আজ এই বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে সমস্ত বাংলার মানুষের কাছে বলতে চাই হিংসা বাংলার সংস্কৃতি নয়।”
[ভূত তাড়ানোর নামে বেধড়ক মার গুনিনের, বেঘোরে মৃত্যু পক্ষাঘাতে আক্রান্ত যুবকের]
এদিন তিনি দলের সাংগঠনিক কর্মসূচি সেরে জনসভাস্থলে যাওয়ার সময় তাঁকে কালো পতাকা দেখায় তৃণমূল। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাদের কুড়ি জন নেতা-কর্মী মারা গিয়েছেন। ১৩৪১ জন কর্মী জখম হন বলে এদিন ওই সভা থেকে দাবি করেন অমিত শাহ। ২০১৯ সালে বিজেপি ২২টির বেশি আসন পাবে বলেও এদিন ওই মঞ্চ থেকে দাবি করেন। আর পুরুলিয়া লোকসভা আসনটি তারা যদি জেতেন তাহলে সেটা ২৩ হবে। আগামী লোকসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে গেরুয়া শিবিরকে আটকাতে যেভাবে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোট গড়ছেন তাঁকে কটাক্ষ করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। তিনি বলেন, “মমতা দি সমস্ত লোককে একজায়গায় নিয়ে এসেছেন। জোট করেছেন। ফলে ভাল পরিবেশে নির্বাচনে হবে। এই জোটে আমাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু বাংলার মাটি তার কাছ থেকে সরে যাচ্ছে।” তাই পদ্ম ফুলে ভোট দিয়ে বিজেপিকে নিয়ে আসার কথা বারেবারে বলেছেন তিনি। এই রাজ্য তথা পুরুলিয়ায় কোন উন্নয়নই হয়নি বলেই দাবি করেন। অমিত শাহ-র অভিযোগ, “এখনও পুরুলিয়ার মায়েদের পাঁচ কিমি দূরে গিয়ে জল আনতে হয়। ঘরে বিদ্যুৎ নেই। রোজগার নেই। রেশন নেই। যা উন্নয়ন হয়েছে তৃণমূলের গুন্ডাদের।” তাই তিনি বলেন, আগে ইউপিএ সরকার ত্রয়োদশ অর্থ কমিশনে এক লাখ বত্রিশ হাজার কোটি টাকা দিত। এখন নরেন্দ্র মোদি সরকার চতুর্দশ অর্থ কমিশনে ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা দিচ্ছে বাংলা কে। কিন্তু সেই টাকা নিচুতলায় এসে পৌঁছচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, সব টিএমসি সিন্ডিকেট নিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে সব কেন্দ্রীয় প্রকল্প শুরু করেছেন তার কথা এদিন তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ৫ লক্ষ স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার নিতে চাইছে না বলেও অভিযাগ করেন। এদিনের সভায় ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা, রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও পঞ্চায়েত প্রদেশ প্রমুখ মুকুল রায়।
[অনুপম হাজরাকে অবিলম্বে কাজে ফেরাতে হবে, বিশ্বভারতীকে নির্দেশ হাই কোর্টের]
এদিন পুরুলিয়ায় জনসম্পর্ক কর্মসূচির সূচনা করার কথা ছিল অমিত শাহর। কিন্তু সেই কর্মসূচির জেরেই বিড়ম্বনায় পড়তে হল বঙ্গ বিজেপি নেতাদের। চরম অস্বস্তি পড়লেন খোদ সর্বভারতীয় সভাপতি। এদিন লাগদা গ্রামে একটি বাড়ি থেকে কর্মসূচি সূচনা করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু আদতে ওই পরিবারটি কংগ্রস সমর্থক। আর তা জানতে পেরেই ক্ষুব্ধ হন অমিত শাহ, এমনটাই জানা গিয়েছে দলীয় সূত্রে। যার জেরে কর্মসূচি সূচনাই করা যায়নি। একইসঙ্গে এদিন অমিত শাহর জনসভায় আসতে গিয়েও বাধাপ্রাপ্ত হলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। রাস্তায় বাস ও অন্যান্য গাড়ির যানজটের জেরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সভাস্থলেই পৌঁছতে পারলেন না মন্ত্রী। একসময় নিজেই গাড়ি থেকে নেমে অনুগামীদের সঙ্গে নিয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজ করেন তিনি। তারপর যানজয় সরিয়ে যখন তিনি সভাস্থলে পৌঁছন ততক্ষণে সভা শেষ হয়ে যায়। যার জেরে প্রশাসনের উপর বেজায় ক্ষুব্ধ বাবুল।
ছবি: অমিত সিং দেও
The post পুরুলিয়ায় দাঁড়িয়ে বাংলায় পরিবর্তনের ডাক অমিতের appeared first on Sangbad Pratidin.
