ভালো কাজের জন্য ব্লকের মধ্যে সেরা বিএলও হিসাবে প্রশাসনের তরফে পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি! আর তাঁর হাতেই এল কিনা লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির জন্য শুনানির নোটিশ। শুধু নিজের নামেই নয়, মায়ের নামেও ওই বিএলওকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। আগামী ২৯ জানুয়ারি মা ও বিএলও ছেলেকে কাটোয়া ১ বিডিও অফিসে হাজিরা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসআইআরে নিজের পরিবারেরই দু'জনের লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি কীভাবে দেখা দিয়েছে তা বুঝতে পারছেন না বিএলও আতিয়ার রহমানের।
আতিয়ার রহমানের কথায়, "২০০২ ভোটার তালিকায় আমার মায়ের এবং আমার নাম রয়েছে। আমার বুথের যাঁদের নামে নোটিস এসেছিল আমি নিজের হাতে সবকিছু তথ্য যাচাই করে আপলোড করে দিয়েছি। এবার আমার নামেই কীভাবে লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি দেখা দিল সেটা কিছুতেই ধরতে পারছি না। এগুলো সাধারণ মানুষদের নিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।"
কাটোয়ার হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা আতিয়ার রহমান। কাটোয়ার সুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অঙ্কের শিক্ষক তিনি। বাংলায় চলা এসআইআর সংক্রান্ত কাজে বিএলও হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। হরিপুর গ্রামে ১০ নম্বর বুথের বিএলওর দায়িত্বে আতিয়ার রহমান। ওই বুথে মোট ভোটার ১২৭৩ জন। বাদ দিয়ে এখন ১১৬০ জন ভোটার রয়েছেন। জানা গিয়েছে, ওই বুথে ১৯ জনের 'নো ম্যাপিং' ধরা পড়ে। এরপর ২৮২ জনকে প্রথম দফায় শুনানিতে ডাকা হয়। তাঁদের শুনানির পর তথ্য আপলোড করার কাজ বিএলও হিসাবে আতিয়ার রহমান করেছেন। এরপর সম্প্রতি ২৫ জনের নামে নোটিশ এসেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আতিয়ার রহমান এবং তাঁর ৬৫ বছর বয়স্কা মা মুসকুরা বিবি শেখ। আর সেই নোটিস হাতে নিয়ে রীতিমতো অবাক পেশায় অঙ্ক শিক্ষক ওই বিএলও।
শুনানির নোটিস পেয়েছেন আতিয়ার রহমানও।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআই আরের এনুমারেশন ফর্ম বিলি ও পূরণ করে ডিজিটাইজ করার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করায় প্রশাসন থেকে গত নভেম্বর মাসে ওই ব্লকের সেরা বিএলও হিসাবে পুরস্কৃত করা হয়েছিল আতিয়ার রহমানকে । এবার তিনিই হাতে পেলেন লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির জন্য শুনানির নোটিস। আর সেই নোটিস নিজেই মায়ের হাতে ধরিয়েছেন আতিয়ার রহমান। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ২৯ জানুয়ারি দু'জনে মিলেই কমিশনের এসআইআর সংক্রান্ত শুনানিতে হাজিরা দিতে যাবেন।
