সামনেই বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সবার নজর এখন এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকার উপর। শনিবার সকাল থেকে ধাপে ধাপে প্রকাশিত হচ্ছে চূড়ান্ত তালিকা। ফাইনাল ভোটার লিস্ট থেকে কতজনের নাম বাদ পড়ে, সেদিকে নজর সবার। এর মধ্যেই আজব ঘটনার সাক্ষী সিঙ্গুরের একাধিক ভোটার! দেখা যাচ্ছে, প্রকাশিত ভোটার তালিকায় সেখানকার একাধিক ভোটারের নাম নেই। কিন্তু এর আগে কমিশনের প্রকাশিত খসড়া তালিকায় নাম ছিল। এর ফলে কোনও নোটিসও পাঠানো হয়নি সেই সমস্ত ভোটারদের। এরপরেও কেন নাম বাদ তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনায় রীতিমতো অবাক বিএলওরাও! তাঁদের কথায়, 'কেন নাম বাদ তা আমাদেরও অজানা। এই অবস্থায় ভোটারদের জবাব কী দেব?' কমিশনের এহেন 'ভুলে' নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেছেন কমিশন নিযুক্ত বিএলওরা।
১৮৮ সিঙ্গুরের, ১২৪ নম্বর বুথের দায়িত্বে থাকা চন্দ্রশেখর দাস বলেন, ''তালিকা হাতে পাওয়ার দেখি অনেক নাম বাদ পড়ে গিয়েছে। কিন্তু কেন বাদ সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি সেখানে। এমনকী শুনানির জন্যেও কোনও নোটিসও ওই সমস্ত ভোটারকে পাঠানো হয়নি।'' তাঁর কথায়, ''আমাদের কারোর নাম বাদ দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না। নির্দেশ মতো নথি নেওয়া এবং জমা দেওয়ার কাজ করেছি। এরপর তো আমাদের কাছেই ভোটাররা কৈফিয়ত চাইবে।'' একই দাবি ১৮৮ সিঙ্গুরের ১২৯ নম্বর বুথে কর্মরত আরও এক বিএলও অরূপ পাত্রের। তিনি বলেন, ''আমার বুথে কিছু নাম এমন ডিলিট হয়েছে যাঁদের কোনওদিনই শুনানির জন্য ডাকা হয়নি। যথাযথ নথি জমা দেওয়ার পরেও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিতে থাকা কিছু নামও ডিলিট হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় যাঁদের নাম বাদ পড়ল তাঁরা তো কেউ ছেড়ে কথা বলবে না। উত্তেজিত তো হবেই।'' ঘটনায় রীতিমতো আশঙ্কায় আছেন বলে জানিয়েছেন ওই বিএলও। এমনকী এই তালিকা সামনে আসার পর থেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানিয়েছেন অরূপ পাত্র।
বলে রাখা প্রয়োজন, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এসআইআরের কাজ শেষে শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। বিধানসভা কেন্দ্র অনুযায়ী সেই তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। বিএলও-সহ কমিশন নিযুক্ত আধিকারিকদের কাছে ইতিমধ্যে সেই তালিকা পৌঁছে গিয়েছে। অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও চূড়ান্ত তালিকায় ভোটাররা নিজের নাম দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু কমিশনের ওয়েবসাইট ক্রমাগত ক্র্যাশ করায় তা ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যেই সিঙ্গুরের ঘটনায় সেখানকার ভোটারদের তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। যদিও কেন নাম বাদ, এখনও পর্যন্ত কমিশনের তরফে কোনও বার্তা দেওয়া হয়নি।
