ভাড়াবাড়ির বন্ধ ঘর থেকে মিলল যুগলের পচাগলা দেহ। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমান শহরের কালনা গেট এলাকায়। পুলিশ জোড়া মৃতদেহ উদ্ধারের পর তদন্ত শুরু করেছে। খুন নাকি আত্মহত্যা? সেই প্রশ্ন উঠেছে। জানা গিয়েছে, ওই যুগলের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই যুগল 'লিভ ইন' শুরু করেন বলে খবর!
জানা গিয়েছে, মৃত তরুণের নাম আকাশ দাস, তরুণী দেবলীনা কর। বছর ২৫-এর আকাশের বাড়ি বর্ধমান শহরের বড়নীলপুর বটতলা এলাকায়। জানা গিয়েছে, পেশায় ফটোগ্রাফার আকাশের সঙ্গে তাঁর পরিবারের কোনও বিষয় নিয়ে মতানৈক্য, বিবাদ চলছিল। সেজন্য বাড়ি ছেড়ে তিনি কালনা গেট এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন। আকাশের বান্ধবী বছর ২৩-এর দেবলীনার বাড়ি বর্ধমান শহরের শাঁখারিপুকুর এলাকায়। শোনা গিয়েছে, দু'জনের আগামীতে বিয়ের কথাও চূড়ান্ত হয়েছে। তবে তার আগেই আকাশের সঙ্গে ওই তরুণী থাকতে শুরু করেছিলেন। প্রতিবেশীরা এই লিভ ইনের বিষয়ে মাথা গলাননি বলে খবর।
আজ সোমবার সকালে ওই ভাড়াবাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বার হচ্ছিল। বাড়ির দরজা ভিতর থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। ডাকাডাকি করেও কারও সাড়া মেলেনি। প্রতিবেশীরা ও বাড়িওয়ালার সন্দেহ হয়। খবর দেওয়া হয় বর্ধমান থানায়। পুলিশ দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকলেই হাড়হিম করা দৃশ্য দেখা যায়। ঘরের মধ্যে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ওই যুগলকে। শরীরে ইতিমধ্যেই পচন ধরেছে। সেজন্য পচা দুর্গন্ধ বার হতে থাকে।
খুন নাকি আত্মহত্যা? সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুগল গত চার মাস ধরে ওই বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন। দু'জনেই সকালে একসঙ্গে বেরিয়ে যেতেন। রাতে আবার একসঙ্গে ফিরতেন। তাঁরা দিনভর কোথায় যেতেন, থাকতেন, কিছুই জানতেন না প্রতিবেশীরা। তবে দু'জনের মধ্যে কোনও অশান্তির আঁচও পাওয়া যায়নি বলে খবর। স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার শেষ তাঁদের দেখা গিয়েছিল। বাড়িওয়ালা ও স্থানীয়রা দিন কয়েক তাঁদের না দেখতে পেয়ে অনুমান করেছিলেন, আকাশ ও দেবলীনা হয়তো বাইরে কোথায় গিয়েছিলেন। কিন্তু এমন ঘটনা ঘটতে পারে, আন্দাজও কেউ করেননি!
দু'জনের মধ্যে কি সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল? নাকি আর্থিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল? ঘুমের ওষুধ খেয়ে কি যুগল আত্মহত্যা করেছেন? একাধিক প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখছে।
