shono
Advertisement

Breaking News

Chicken's Neck

বর্ষায় চোরাচালান রুখতে চিকেনস নেকের নদীতে বিশেষ বিএসএফের নজরদারি, বসল 'আন্ডারওয়াটার সেন্সর'

তিস্তা, আত্রেয়ী, গঙ্গার মতো আন্তঃসীমান্ত নদীর সংখ্যা প্রায় ৫৭টি। বেশিরভাগ খরস্রোতা নদীতে স্পিড বোটে নজরদারি সম্ভব হয় না।
Published By: Kousik SinhaPosted: 06:40 PM Jun 21, 2026Updated: 07:21 PM Jun 21, 2026

শুরু হয়েছে বর্ষা। প্রবল বৃষ্টিতে ইতিমধ্যে উত্তরবঙ্গের একাধিক জায়গায় নেমেছে ধস। জলস্তর বাড়তে শুরু করেছে উত্তরের নদীগুলিতে। এহেন পরিস্থিতিতে উত্তাল পাহাড়ি নদীপথে অনুপ্রবেশ ঘটাতে সক্রিয় হতে পারে জেহাদিরা! এমন শঙ্কায় 'চিকেনস নেক' অর্থাৎ 'শিলিগুড়ি করিডর' সংলগ্ন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রতিটি নদীতে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ করেছে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেমন, ড্রোন, আন্ডারওয়াটার সেন্সর, এবং থার্মাল ইমেজারের সাহায্যে তিস্তা, আত্রেয়ী, গঙ্গার মতো নদীগুলোতে নজরদারি শুরু হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ষায় অনুপ্রবেশের পাশাপাশি গবাদি পশু, মাদক চোরাচালানের প্রবণতা বেড়ে যায়। ওই কারণে নদীচর এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

Advertisement

বিএসএফ সীমান্তে থার্মাল ইমেজার, রাডার-সজ্জিত ড্রোন এবং এআই নির্ভর ক্যামেরার সাহায্য নিচ্ছে। এলাকা প্লাবিত হলে ফ্লোটিং বর্ডার আউটপোস্ট খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কার্যত কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে বিভিন্ন অছিলায় উত্তেজনার সৃষ্টি এবং মিথ্যা প্রচারের ঝড় তোলা হলেও ভারত সীমান্ত জুড়ে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার বলয় তৈরি করতে বদ্ধ পরিকর। সেটা বাংলাদেশ থেকে উন্মুক্ত নেপাল সীমান্ত যেখানেই হোক না-কেন। কিন্তু কাঁটাতারের বেড়া নজরে রাখা সহজ হলেও বর্ষা শুরু হতে নতুন বিপদ গর্জেছে নদী পথ ঘিরে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের বড় অংশ নদী এবং জলাভূমি ঘেরা। তিস্তা, আত্রেয়ী, গঙ্গার মতো আন্তঃসীমান্ত নদীর সংখ্যা প্রায় ৫৭টি। বেশিরভাগ খরস্রোতা নদীতে স্পিড বোটে নজরদারি সম্ভব হয় না। এছাড়াও বর্ষায় নদী উথাল-পাথাল হতে উত্তরের কোচবিহার, মালদহের আন্তর্জাতিক সীমানায় থাকা কাঁটাতারের বেড়া জলে তলিয়ে যায়। অনেক নদী গতিপথ পালটে ফেলে এবং বন্যার জন্য কাঁটাতারের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

অভিযোগ, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ও চোরাকারবারির ওই দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে নদীপথগুলোকে কাজে লাগিয়ে সীমান্ত টপকে ভারতে ঢুকে পড়ে। এই সময় নদীতে ভাসিয়ে গবাদি পশু পাচার ও মাদক চোরাচালানের প্রবণতাও বেড়ে যায়। কিছু নদীপথে রাতের অন্ধকারে নৌকায় বেআইনি কারবার চলে। ওই প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দিতে এতদিন সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর জওয়ানদের হিমসিম খেতে হয়েছে। বাজ পড়ে অনেক জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এবার শুরু হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। সীমান্তের নদীপথে ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি শুরু করেছে বিএসএফ। এছাড়াও নদীতে ডুব দিয়ে কেউ সীমান্ত টপকে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদের গতিবিধি জানতে আন্ডারওয়াটার সেন্সর কাজে লাগানো হচ্ছে। প্রবল বর্ষণের রাতে মানুষের পক্ষে নিখুঁত নজরদারি সম্ভব নয়। ওই কারণে বিএসএফ সীমান্তে থার্মাল ইমেজার, রাডার-সজ্জিত ড্রোন এবং এআই নির্ভর ক্যামেরার সাহায্য নিচ্ছে। এলাকা প্লাবিত হলে ফ্লোটিং বর্ডার আউটপোস্ট খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিএসএফ ও রাজ্য পুলিশ যৌথভাবে রাতে টহলদারি বাড়িয়েছে। 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement