ধীমান রায়, কাটোয়া: এটিএমে মেশিন থেকে বের হওয়ার সময় আটকে গেল টাকা। গ্রাহক বহু চেষ্টা করলেন টাকা বের করার। কিন্তু টানাটানি করেও তিনি তা পারলেন না। প্রায় এক ঘণ্টা টাকা আগলে অপেক্ষা করতে হল তাঁকে। শেষপর্যন্ত ব্যাঙ্কের এক কর্মী এসে মেশিনে আটকে থাকা সাড়ে তিন হাজার টাকা বের করেন। রবিবার ভাতার বাজারে একটি এটিএমে এমন বিপত্তিতে পড়েন পরেশচন্দ্র রায়।
[এবার অনলাইনেই বিয়ের রেজিস্ট্রি, রাজ্যের সিদ্ধান্তে খুশি নয়া প্রজন্ম]
ভাতার বাজার এলাকার রবীন্দ্রপল্লিতে বাড়ি পরেশচন্দ্র রায়ের। তিনি পেশায় রেলকর্মী। স্থানীয় শ্যামসুন্দরের রেলগেটে কাজ করেন। এদিন সকালে ভাতার বাজারে একটি এটিএমে টাকা তুলতে গিয়েছিলেন তিনি। পরেশবাবু বলেন, “আমি সাড়ে তিন হাজার টাকা তুলি। যথারীতি মেশিনে আওয়াজ হতেই মোবাইলে মেসেজ চলে আসে। এরপর টাকা বের হওয়ার সময়ে হঠাৎ মাঝপথে আটকে যায়। বহু চেষ্টা করলাম। কিন্তু টাকা বের করতে পারলাম না।” সাড়ে তিন হাজার টাকার মধ্যে ছিল একটি ২০০০ টাকার নোট। বাকি তিনটি ৫০০ টাকার নোট। পরেশবাবুর সংযোজন, টাকা আটকে যাওয়ায় ফের ৫০০ টাকা তোলার জন্য তিনি কার্ড সোয়াইপ করেন। ভেবেছিলেন যদি মেশিন ঠিক হয়ে গিয়ে পুরো চার হাজার টাকাই বেরিয়ে আসে। কিন্তু কোনও টাকাই বের হয়নি। তবে ওই গ্রাহকের দাবি, এখনও ওই মেশিনে তাঁর ৫০০ টাকা আটকে আছে। যা ইতিমধ্যেই তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে বেরিয়ে গিয়েছে।
[ফেসবুকে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি, অপমানে আত্মঘাতী ছাত্রী]
ঘটনার সময় এটিএমের পাশেই ছিলেন সংবাদপত্র বিক্রেতা স্থানীয় বাসিন্দা শ্রীকান্ত রায়। শ্রীকান্তবাবু বলেন, “টাকা মেশিনে আটকে যাওয়ার পর আমরাও কয়েকজন টেনে বের করার চেষ্টা করি। কিন্তু পারিনি। শেষে ব্যাঙ্কের এক কর্মীকে জানানো হয়।” স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, টাকা আটকে যাওয়ার পর পরেশবাবু ওই এটিএম আগলে প্রায় এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকেন। তারপর বিষয়টি থানায় জানান। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ব্যাঙ্কের এটিএমে শাটার নামিয়ে দেওয়ার এক্তিয়ার তাদের নেই। পরে পরেশবাবুর ছেলে ভাতার গ্রাম থেকে ওই ব্যাঙ্কের এক কর্মীকে ডেকে আনেন। ব্যাঙ্ক কর্মী দুধকুমার সর্দার এসে মেশিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা বের করে দেন। দুধকুমারবাবু আশ্বাস দেন, বাকি ৫০০ টাকা পরেশবাবু অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে যাবে।
The post এটিএমে আটকে টাকা, মেশিন আগলে দীর্ঘ অপেক্ষা গ্রাহকের appeared first on Sangbad Pratidin.
