shono
Advertisement
Calcutta High Court

মমতার আমলে আইন মেনে ভাঙা হয়নি পুরুলিয়া পুরবোর্ড! প্রশাসক পদ খারিজ করল হাই কোর্ট

২০২৫ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পুরুলিয়া পুর বোর্ড ভেঙে প্রশাসক বসায় বিগত সরকার।
Published By: Kousik SinhaPosted: 08:54 PM Jun 23, 2026Updated: 08:58 PM Jun 23, 2026

তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় আইন মেনে পুরুলিয়া পুর বোর্ড ভাঙা হয়নি। তাই পুরুলিয়া পুরসভার প্রশাসককে খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। দুটি মামলার ভিত্তিতে (যদিও পরবর্তীকালে একই বিষয় থাকায় একটি মামলা হয়ে যায়) কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরি মঙ্গলবার এই রায় দেন। ফলে পুরুলিয়া পুর বোর্ড আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে। পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালি-সহ অন্যান্য কাউন্সিলররা তাঁদের পদ ফিরে পাবেন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিগত বোর্ড পুরুলিয়া পুরসভা চালাতে পারবে কিনা তা নিয়ে নানান প্রশ্ন রয়েছে। তবে এই রায়ের প্রেক্ষিতে প্রাক্তন পুরপ্রধান সহ কাউন্সিলররা ভীষণ খুশি।

Advertisement

প্রাক্তন কাউন্সিলর রবিশঙ্কর দাসের আইনজীবী মৃত্যুঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় বলেন, " হাইকোর্ট জানিয়েছে আইন মেনে পুরুলিয়া পুর বোর্ড ভাঙা হয়নি। তাই প্রশাসক খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। এই রায়ের ফলে পরিষ্কার হয়ে গেল পুরুলিয়া পুর বোর্ড আবার পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যাবে।"

২০২৫ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পুরুলিয়া পুর বোর্ড ভেঙে প্রশাসক বসায় বিগত সরকার। পুরুলিয়া পুরসভার তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা কংগ্রেসের যোগ দেওয়া রবিশঙ্কর দাস বিগত সরকারের বোর্ড ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে তিনি রিট পিটিশন করেন। কিন্তু তা যথার্থ না হওয়ায় হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছিল। তারপর পুরুলিয়ার প্রাক্তন পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালি একই বিষয়ে আবার রিট পিটিশন করেন। অন্যদিকে ওই কাউন্সিলর তাঁর পিটিশন সংশোধন করলে সেই মামলা নেওয়া হয়। দুটি একই বিষয় থাকায় পরবর্তীকালে একটি মামলা হয়েই শুনানি চলছিল। পুরুলিয়ার প্রাক্তন পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালির আইনজীবী ছিলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। প্রাক্তন কাউন্সিলর রবিশঙ্কর দাসের আইনজীবী মৃত্যুঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় বলেন, " হাইকোর্ট জানিয়েছে আইন মেনে পুরুলিয়া পুর বোর্ড ভাঙা হয়নি। তাই প্রশাসক খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। এই রায়ের ফলে পরিষ্কার হয়ে গেল পুরুলিয়া পুর বোর্ড আবার পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যাবে।"

তৃণমূল পরিচালিত পুরুলিয়া পুরো বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর থেকেই বেসুরো প্রাক্তন তৃণমূল পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালি। তিনি যে বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন কয়েক দিন ধরে সমাজমাধ্যমে তাঁর বিভিন্ন পোস্ট থেকেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।

অন্যদিকে প্রাক্তন তৃণমূল পুরপ্রধান তথা পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক নবেন্দু মাহালি বলেন, ''২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে পুরুলিয়া পুর শহর এলাকায় তৃণমূলের ফল খারাপ হয়েছিল। সেই কারণে ওই বছরের একুশে জুলাই-র মঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, যে সকল পুরশহর গুলিতে ফল খারাপ হয়েছে সেখানকার পুর বোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে। তার প্রেক্ষিতেই বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। যে মাস পিটিশন অর্থাৎ পুরুলিয়া শহরের মানুষজনদের নাগরিক পরিষেবা না মেলার অভিযোগের বিষয়কে সামনে রেখে এই বোর্ড ভাঙা। তার কোন প্রমাণ নেই। এই আইনি লড়াই-এ আমাদের বড় জয়। এরপর আমরা আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। " তৃণমূল পরিচালিত পুরুলিয়া পুরো বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর থেকেই বেসুরো প্রাক্তন তৃণমূল পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালি। তিনি যে বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন কয়েক দিন ধরে সমাজমাধ্যমে তাঁর বিভিন্ন পোস্ট থেকেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।

বিগত সরকারের সময় রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক বিভাগ ২০২৫ সালের ১৯ শে নভেম্বর পুরুলিয়ার পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালিকে শো-কজ করে তিনটি কারণ দেখিয়ে। সাধারণ মানুষজনের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে জানানো হয়, এই পুরশহরে সাফাই হয় না। বেহাল নিকাশি, অনিয়মিত জল সরবরাহ সেই সঙ্গে রাস্তায় আবর্জনা পড়ে থাকে। ওই শো-কজের ভিত্তিতে পুরুলিয়ার পুরপ্রধান কাউন্সিলরদের বৈঠক ডাকলেও সেই বৈঠক বিশেষ কারণে স্থগিত হয়ে যায়। তারপর ২৬শে নভেম্বর তিনি বৈঠক না ডেকেই শো-কজের চিঠির উত্তর দিয়ে দেন। কিন্তু ২৭ নভেম্বর বিগত সরকারের রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক বিভাগ পুরুলিয়া পুরসভাকে ই-মেইল করে জানায় বোর্ড অফ কাউন্সিলরের বৈঠক ডাকতে হবে। সেই সঙ্গে শো-কজের চিঠি যে সকল কাউন্সিলর গ্রহণ করেছেন তার প্রমাণ পত্র দিতে হবে। তারপর তড়িঘড়ি ১ ডিসেম্বর বোর্ড অফ কাউন্সিলরের বৈঠক ডাকা হয়। কিন্তু পুরপ্রধানের ডাকা ওই বৈঠকে শাসক দলের কাউন্সিলাররা গরহাজির হওয়ার কথা জানিয়ে দিলে রাজ্য তৃণমূলের নির্দেশে রীতিমতো হুইপ জারি করে শাসকদলের সকল কাউন্সিলরকে সেই বৈঠকে পাঠানো হয়। বৈঠক শেষে ১ লা ডিসেম্বর রাতের দিকে শো-কজের চিঠি পাঠান পুরপ্রধান।

তার আগে গত ২৬ শে নভেম্বর রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পুরবিষয়ক বিভাগের নির্দেশে জেলাশাসকের তরফে তদন্ত এসেছিলেন পুরুলিয়া সদর মহকুমাশাসক উৎপলকুমার ঘোষ। তিনি এই পুরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি বদলি হয়ে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তর ব্যক্তিগত সচিব। এখন প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন ঝালদা পুরসভার মহকুমাশাসক মানসকুমার পান্ডা। 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement