মাটি চুরির ঘটনায় ফের তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের। নদিয়ার (Nadia) নাকাশিপাড়ায় সরকারি খাস জমির মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও কয়েক হাজার মূল্যবান সেগুন ও মেহগনি গাছ পাচার করা হয়েছে বলে দাবি। এই ঘটনায় অভিষেক-সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে মামলা দায়ের করলেন এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা। জুলাই মাসের ২৭ তারিখ মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। ওই দিনের মধ্যে পুলিশকে তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ আদালতের।
জানা গিয়েছে, নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় প্রায় ১১০০ বিঘা সরকারি জমির মাটি বেআইনিভাবে উত্তোলন, গাছ কাটা, সরকারি সম্পত্তি লুট এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে অভিষেক ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে। অভিষেকের মদতেই এই কাজ চলত বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। এই নিয়ে গতকাল কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাকারীদের আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাস জানান, নাকাশিপাড়া ২৪ নম্বর মৌজার অন্তর্গত ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থিত প্রায় ১১০০ বিঘা সরকারি খাস জমির লিজের মেয়াদ ২০২০ সালেই শেষ হয়ে যায়। অভিযোগ, এরপরও দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে ওই জমির একটি বড় অংশ থেকে মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে। মামলাকারীদের দাবি, প্রায় সাড়ে ৪০০ বিঘা জমির মাটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এর ফলে সরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
শুধু মাটি নয়, কয়েক হাজার মূল্যবান সেগুন ও মেহগনি গাছ কেটে পাচারের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এই কাজ চললেও প্রশাসনের একাংশের নীরবতার কারণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। "মাথায় অভিষেক দাদার হাত রয়েছে", এই কথা বলে এলাকাবাসীকে ভয় দেখাতেন অভিযুক্তরা। রাজ্যে পালাবদলের পর নাকাশিপাড়ার বাসিন্দা পরাশর মণ্ডল, সঞ্জয় দাস, রঞ্জিত বিশ্বাস ও অশোক হালদার অভিষেক-সহ তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। অভিষেক ছাড়াও বাকি অভিযুক্তরা হলেন, শাহজাহান শেখ, চাদু শেখ, হাফিজুল শেখ, হেসমত শেখ, সাইদুল শেখ, গোজলো শেখ, বিদ্যুৎ সরকার, সমীর প্রামাণিক, কিয়ামত শেখ এবং আরমান শেখ।
মামলায় আরও একটি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। আইনজীবীর দাবি, কাজের প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মহিলাদের উপর দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন চালানো হত। রাজনৈতিক প্রভাব এবং পরিবারের নিরাপত্তার আশঙ্কায় ভুক্তভোগীরা এতদিন প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারেননি।
এর আগে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের কালীতলা আশুতি থানায় ৩০০ কোটি টাকার মাটি চুরির অভিযোগ উঠেছিল অভিষেকের বিরুদ্ধে। এবার নদিয়ায় সরকারি জমি থেকে মাটি ও গাছ চুরির অভিযোগ সামনে এল।
