রেললাইনের ধার থেকে আজ সকালে এক ব্যবসায়ীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল নদিয়ার চাকদহ থানার সুকান্ত পল্লি এলাকায়। পুলিশের অনুমান, ট্রেনের ধাক্কায় ওই ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তাঁর স্কুটিটি রেললাইনের অদূরে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। ওই ব্যবসায়ী স্কুটিতে চেপে রেললাইনের ধারে এসেছিলেন কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এর পিছনে অন্য কোনও বিষয় রয়েছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মৃত ব্যবসায়ীর নাম প্রমথ মণ্ডল (৪২)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চাকদহ ডাউন স্টেশন এলাকায় মরসুমি বিভিন্ন জিনিসপত্রের ব্যবসা করতেন। কখনও ছাতা, কখনও শীতের পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি করে সংসার চালাতেন তিনি। জানা গিয়েছে, আজ সকালে প্রমথ স্কুটি নিয়ে বেরিয়েছিলেন। এরপর সকাল আটটা নাগাদ স্থানীয় বাসিন্দারা রেললাইনের ধারে তাঁর রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর খবর দেওয়া হয় চাকদহ জিআরপিকে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রমথকে উদ্ধার করে প্রথমে চাকদহ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় কল্যাণী কলেজ অফ মেডিসিন অ্যান্ড জেএনএম হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রমথবাবুর স্কুটি রাস্তার উপরই পড়ে ছিল। তাহলে কীভাবে তিনি রেললাইনে পৌঁছলেন? কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল? এটি আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রমথবাবু দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। অভিযোগ, এলাকার এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা পেতেন। কিন্তু সেই টাকা দিচ্ছিলেন না ওই ব্যক্তি। সেই কারণে মহাজনকেও প্রমথ টাকা দিতে পারছিলেন না। এই নিয়ে চিন্তায় ছিলেন ব্যবসায়ী। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রানাঘাট জিআরপি থানা। এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
