shono
Advertisement

Breaking News

Samsherganj

যে কোনও মুহূর্তে তলিয়ে যাবে শিশুশিক্ষা কেন্দ্র! সামশেরগঞ্জে শিক্ষিকার বাড়িতেই খুদে পড়ুয়াদের ক্লাস

গঙ্গা থেকে স্কুল ভবনের দূরত্ব মাত্র এক থেকে দুই ফুট। নদীর একেবারে খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে রয়েছে স্কুলটি।
Published By: Arpita MondalPosted: 04:24 PM Aug 27, 2026Updated: 05:02 PM Aug 27, 2026

'নদীর পাড়ে বাস, চিন্তা বারো মাস'-মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ব্লকের উত্তর চাচন্ড গ্রামের মানুষের কাছে এই প্রবাদটাই ধ্রুব সত্য। প্রতি বছর গঙ্গার ভাঙনে তলিয়ে যায় রাস্তা, ভিটে, চাষের জমি। এবার ভাঙনের গ্রাসে উত্তর চাচন্ড শিশু শিক্ষা কেন্দ্র। গঙ্গা থেকে স্কুল ভবনের দূরত্ব মাত্র এক থেকে দুই ফুট। নদীর একেবারে খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে রয়েছে স্কুলটি। বর্তমানে গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমার কাছাকাছি। ফলে ভাঙনের আতঙ্ক তীব্র আকারে গ্রাস করেছে। বর্ষা শুরু হওয়ায় যে কোনও মুহূর্তে গঙ্গার গর্ভে তলিয়ে যেতে পারে গোটা ভবন। আর এই আতঙ্কে ১১০ জন শিশুর ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চিত। পরিস্থিতি বুঝে নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা দপ্তর ও ব্লক প্রশাসন। পড়ুয়াদের সুরক্ষার কথা ভেবে স্কুল ভবন থেকে পঠনপাঠন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এলাকার এক শিক্ষিকার বাড়িতেই চলছে ক্লাস ও মিড- ডে মিল।

Advertisement

প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছর ধরেই সামশেরগঞ্জে গঙ্গা ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শিবপুর, চাচন্ড, প্রতাপগঞ্জ, ধানঘড়া-সহ একাধিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত। গৃহহীন হয়েছে হাজারের বেশি পরিবার। স্কুলের এক সহায়িকা জানান, "গঙ্গার একদম লাগোয়া আমাদের স্কুল। প্রতিদিন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। কোনও বাচ্চা দুর্ঘটনাবশত গঙ্গায় পড়ে গেলে বা বর্ষায় ভবন ভেঙে পড়লে বিশাল ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই দিদিমণির বাড়িতে স্কুল করার ব্যবস্থা করা হয়েছি। ১১০ জনকে একসঙ্গে পড়ানোর জায়গা নেই, তবুওচেষ্টা করা হচ্ছে।"

সামশেরগঞ্জের বিডিও সমীরণ কৃষ্ণ মণ্ডল জানান, "বাচ্চাদের সুরক্ষা প্রথম প্রাধান্য। পঠনপাঠন যাতে বন্ধ না থাকে তাই সাময়িকভাবে শিক্ষিকার বাড়িতেই ক্লাস ও মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গঙ্গা থেকে ১-২ ফুট দূরে স্কুল, যে কোনও মুহূর্তে তলিয়ে যেতে পারে। আমরা দ্রুত নিরাপদ জায়গায় পঠনপাঠন শুরুর চেষ্টা করছি।" তবে এই অস্থায়ী ব্যবস্থায় ক্ষুব্ধ কিছু অভিভাবক। অভিযোগ, ১১০ জনের জায়গায় ১০-২০ জনকে নিয়ে ছোট বাড়িতে ক্লাস চলছে। ফলে পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। মিড-ডে মিলও অনিয়মিত। এমন অবস্থায় একজন অভিভাবক আনিকুল ইসলাম বলেন, "প্রায় ১০ মাস ধরে স্কুল বন্ধ। দিদিমণির বাড়িতে ১০-২০টি বাচ্চা যাচ্ছে। কোনওদিন মিড-ডে মিল হয়, কোনওদিন হয় না। প্রশাসন দ্রুত স্কুল চালুর ব্যবস্থা করুক।" যদিও অনেকেই ওই শিক্ষিকার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। বিপদের দিনে পড়াশোনা বন্ধ না করার জন্য তাঁকে কুর্নিশ জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement