shono
Advertisement
Chicken Neck

বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্পে চিনের আধিকারিকরা! ঢিল ছোড়া দূরত্ব 'চিকেনস নেক'-এ বাড়ল আরও নিরাপত্তা

'চিকেনস নেক' অর্থাৎ 'শিলিগুড়ি করিডর'-এর অদূরে সমীক্ষা চিনের! সম্প্রতি রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় তিস্তা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন চিনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বাংলাদেশের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত এই তিস্তা প্রকল্পের এলাকা। এর পূর্ব দিকে সীমান্তের এপারে 'চিকেনস নেক' অর্থাৎ 'শিলিগুড়ি করিডর'।
Published By: Suhrid DasPosted: 09:01 PM Jan 20, 2026Updated: 09:01 PM Jan 20, 2026

'চিকেনস নেক' অর্থাৎ 'শিলিগুড়ি করিডর'-এর অদূরে সমীক্ষা চিনের! সম্প্রতি রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় তিস্তা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন চিনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বাংলাদেশের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত এই তিস্তা প্রকল্পের এলাকা। এর পূর্ব দিকে সীমান্তের এপারে 'চিকেনস নেক' অর্থাৎ 'শিলিগুড়ি করিডর'। গোয়েন্দা সূত্রে ওই খবর মিলতে কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি আরও আঁটসাঁট করা হয়েছে।

Advertisement

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে যখন শীতলতা দেখা গিয়েছে, তখন চিনের সঙ্গে যোগাযোগ বেড়েছে বাংলাদেশের! ওই দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ইচ্ছায় 'শিলিগুড়ি করিডর'-এর খুব কাছে বাংলাদেশের তিস্তা নদী প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করলেন চিনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বাংলাদেশের উত্তর প্রান্তে রয়েছে ওই তিস্তা প্রকল্পের এলাকা। এর পূর্ব দিকে সীমান্তের এপারে ভারতের 'চিকেনস নেক'। প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ করিডরের দু'পাশে দুই দেশ। উত্তর-পূর্ব ভারতকে বাকি দেশের সঙ্গে যুক্ত রেখেছে এই ২২ কিলোমিটার পথ। এমন স্পর্শকাতর এলাকায় বাংলাদেশের দিকে চিনা তৎপরতা ঘিরে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, সম্প্রতি রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় তিস্তা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন চিনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জানিয়েছে, চিনা রাষ্ট্রদূতের এই সফর তিস্তা নদী 'কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিস্টোরেশন প্রজেক্ট'-এর অধীন প্রযুক্তিগত সমীক্ষার অংশ। জানা গিয়েছে, চিন যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে আগ্রহী। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে তিস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নদী। তিস্তার জল বণ্টন নিয়ে কয়েক দশক আলোচনা চললেও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছনো যায়নি। এরই মধ্যে বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্পে চিনের হস্তক্ষেপ। স্বভাবতই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমশ উদ্বেগ বেড়েছে।

বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্প।

গোয়েন্দাদের মতে, উদ্বেগের মূল কারণ, এই অঞ্চলে সমস্যা দেখা দিলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রায় ৫ কোটি মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। 'চিকেনস নেক' এলাকাটি নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চিনের কাছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের লালমনিরহাটে পুরনো বিমানঘাঁটি চালু করার খবর মিলেছে। সেখানেও চিনের প্রযুক্তিগত সাহায্যের অনুমতি মিলেছে। এরপরই শিলিগুড়ি করিডর ঘিরে নিরাপত্তার বলয় তৈরি করতে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া, অসমের ধুবড়ি এবং বিহারের কিষানগঞ্জে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৈরি বর্তমানে পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপ অর্থাৎ বিমানঘাঁটিগুলো চালু করতে তৎপর হয়েছে ভারত। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় বিমান বাহিনীর জরুরি অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়াতে ওই উদ্যোগ। উত্তরবঙ্গ, অসম ও ত্রিপুরা রাজ্যে রয়েছে সাতটি পুরনো বিমানঘাঁটি। তার মধ্যে উত্তরবঙ্গে রয়েছে পাঁচটি। মোট সাতটি বিমানঘাঁটির মধ্যে কোচবিহার এবং আসামের রূপসী বিমানবন্দর ইতিমধ্যে সচল করা হয়েছে।

পাশাপাশি নতুন ডিজাইনের বেড়ায় ঢেকেছে ৭৫ শতাংশ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা। আধুনিক বেড়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে শক্তিশালী নজরদারি ক্যামেরা এবং উন্নত এরিয়া ডমিনেশন ব্যবস্থা। সীমান্তের পাতা পড়লেও এখন সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) নজরে আসবে। সেই সঙ্গে আত্মরক্ষার জন্য ঢাল করা হয়েছে এস ৪০০ ডিফেন্স সিস্টেম। রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা সারফেস টু এয়ার মিসাইলও প্রস্তুত রাখা হয়েছে সীমান্তে। 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement